নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের ছন্দে মুখর কক্সবাজার সৈকত। সাপ্তাহিক ছুটিতে পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনকে নিয়ে সৈকতে ছুটে এসেছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। কেউ মেতেছেন ঢেউয়ের খেলায়, কেউ জেড স্কি, ঘোড়সওয়ারি কিংবা বিচ বাইকে। পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট সৈকতপাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্যও। তবে আনন্দের এই ভিড় সামলাতে বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা বলছেন লাইফগার্ড সংস্থা।
ইট-পাথরের শহর আর যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ছেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে সমুদ্রের টানে কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন হাজারো মানুষ। সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখর বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবনী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়-সাগরের ঢেউয়ে পা ভেজানো, প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তোলা কিংবা নীল জলরাশির সৌন্দর্য উপভোগ-সব মিলিয়ে সৈকতে যেন উৎসবের আমেজ। কেউ ছুটছেন জেড স্কিতে, কেউ ঘোড়ার পিঠে। আবার কেউ বিচ বাইকে চড়ে উপভোগ করছেন সৈকতের সৌন্দর্য। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের উচ্ছ্বাসে সরগরম এই পয়েন্টগুলোর ৩ কিলোমিটার সাগরতীর।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জহিরুল ইসলাম বলেন, “আসলে সাগরটা আমার এতটাই ভালো লাগে যে, যত ব্যস্ততাই থাকুক, সময় করে সাগরের কাছে চলে আসতে হয়। আর এখানে আসার পর যে প্রশান্তি পাই, সেটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সাগরের কাছে এলে মনটা ভালো হয়ে যায়, খুবই ভালো লাগে।”
পর্যটক মর্জিনা খানম বলেন, “এই অনুভূতিটা আসলে একেবারেই অন্যরকম। জীবনে প্রথমবার কক্সবাজারে এসেছি, সাগর দেখে খুবই ভালো লাগছে।”
নারায়রগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক হায়দার আলী বলেন, “আসলে প্রতিদিনের ব্যস্ততায় জীবনটা অনেকটা যান্ত্রিক হয়ে যায়। তাই একটু রিল্যাক্স করার জন্য কক্সবাজারে আসা। সমুদ্রসৈকত উপভোগ করছি, বাচ্চাদের নিয়ে, পুরো ফ্যামিলি নিয়ে বেশ ভালোই সময় কাটছে। আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো লাগছে।”
একই এলাকার সুরাইয়া বেগম বলেন, “এখানে এসে বাচ্চাদের নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে দিচ্ছি, ওরা যা ইচ্ছা করছে, কোনো বাধা নেই-সবাই মিলে উপভোগ করছি। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে এখানে এসে জাস্ট একটু রিল্যাক্স করা, বাচ্চাদের নিয়ে ফ্রি টাইম কাটানো-এটাই আসলে উদ্দেশ্য।”
এদিকে পর্যটকের ভিড়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে সৈকতপাড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যটনসেবা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটক বাড়ায় বিক্রি বাড়ছে ব্যবসায়ীদেরও।
আচার ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, “বেচাকেনা হলে তো অবশ্যই সবার ভালো লাগে। আমাদেরও বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে শুক্রবার পর্যটক বেশি থাকায় বিক্রিও বেশি হয়। শুক্রবারের পাশাপাশি শনিবারও আমরা থাকি। এই দুই দিনই বেচাকেনা ভালো হয়, আমরা বেশ ভালোই লাভবান হচ্ছি।”
পার্ল দোকানদার মো. কামাল বলেন, “এমনিতে শুক্রবার-শনিবারে ৩০, ৪০, এমনকি ৫০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। আর অন্য দিনগুলোতে ১৫, ২০ বা ২৫ হাজার টাকার মতো হয়। শুক্র ও শনিবার পর্যটক একটু বেশি থাকায় ওই সময় বিক্রিটাও ভালো হয়। সব মিলিয়ে আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট।”
তবে পর্যটকের এই আনন্দের আড়ালেই রয়েছে নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ। বিশাল সৈকতে একসঙ্গে নামছেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। অথচ তাদের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২৭ জন লাইফগার্ড।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার ইনচার্জ মো. শুক্কুর বলেন, “আসলে লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতে মাত্র ২৭ জন লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করছি। এর মধ্যে সমুদ্রও উত্তাল, চলছে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত। এরই মধ্যে আমরা লাল পতাকা টাঙিয়ে পর্যটকদের সতর্ক করেছি। কিন্তু মাত্র ২৭ জন লাইফগার্ড দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক পর্যটককে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সমুদ্রে ঢেউ ও পানির টান বেশি থাকায় ঝুঁকিও বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে সারাদিন দায়িত্ব পালন করতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।”
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ছাড়াও পর্যটকরা ঘুরছেন কক্সবাজার-টেকনাফ দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের একাধিক বিনোদন কেন্দ্রে।