মহেশখালী পৌরসভার ২২ কোটি ৮১ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৯২ টাকার ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে একই পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মকছুদ মিয়া সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম বাদী হয়ে কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিমের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কক্সবাজারস্থ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জেলা নাজির বেদারুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাদীর দায়ের করা নালিশী দরখাস্তে বলা হয়েছে, মহেশখালী পৌর এলাকায় উন্নয়নের জন্য ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ২১টি প্রকল্পে মোট ২২ কোটি ৮১ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৯২ টাকার টেন্ডার আহবান করে ২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২টি হলো, মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহর মালিকানাধীন মেসার্স আসাদ এন্টারপ্রাইজ ও হাবিবুল ইসলামের মালিকানাধীন হাবিব এন্টারপ্রাইজ। এ ২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে মামলার অন্যান্য আসামীরা যোগসাজশ করে ভুঁয়া, মিথ্যা পরিমাপ বহি বানিয়ে, ভুঁয়া প্রকল্প দেখিয়ে, পরিমাপ অতিরঞ্জিত করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি বিল উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে নালিশী দরখাস্তে অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীর নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল করিম জানান, বাদী সরওয়ার আজম এসব উন্নয়ন কাজে দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দপ্তরে আগেই অবহিত করেছেন। পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ৫(১)(c)/(d), ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। যার ফৌজদারী দরখাস্ত নম্বর : ০৮/২০২৬ ইংরেজি। কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কক্সবাজারস্থ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা হলেন, মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকছুদ মিয়া, সাবেক পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ, হিসাবরক্ষক মুহাম্মদ এরফান উল্লাহ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আসাদ এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ ও হাবিব এন্টারপ্রাইজের মালিক হাবিবুল ইসলাম। মামলায় ৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মামলার প্রধান আসামী মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকছুদ মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতির নানা অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তারমধ্যে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার প্রধান আসামী মকছুদ মিয়া ও তার স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। সে সময় তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লোপাটের অনুসন্ধান চলমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল দুদক।