চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার চার লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অল্প সময়ের মধ্যেই ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এ জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) বেলা এগারোটার দিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ১০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবন, চিকিৎসক নার্স কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন অবকাঠামো এবং হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীর চিকিৎসা সেবা ও জরুরি বিভাগের রোগী ভর্তির চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এ কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের (সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা) উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন
এসময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব মুহাম্মদ আবদুর রউফ, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ছাবের, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী ফায়েদ আল হোসাইন, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ জায়নুল আবেদিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মিসকাত উদ্দীন আহমদ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাঃ জায়নুল আবেদিন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী এলাকার জনগণের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাঁর (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নির্দেশনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুইজন উপসচিব চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে চিকিৎসক, লোকবল ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য উপকরণ সহায়তা দিয়ে পুর্নাঙ্গভাবে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান অবকাঠামোগত সার্বিক অবস্থা ও চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিদর্শনে এসেছেন।
পরিদর্শনকালে উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন, উপসচিব আবদুর রউফ ও সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ছাবের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চলমান সেবা কার্যক্রম ঘুরে ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং রোগীর সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা সেবার সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তাঁরা পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, আমরা আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা সহকারে পুর্নাঙ্গভাবে ১০০শয্যায় উন্নীতকরণ হবে। সেইলক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম আর কক্সবাজারের মাঝখানে চকরিয়া উপজেলা একটি বিশাল উপজেলা। আমরা জেনেছি, এই উপজেলা আশপাশের আরও ৬টি উপজেলার সংযোগস্থল। ভৌগোলিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে চকরিয়া উপজেলার মানুষের পাশাপাশি পাশের বান্দরবানের লামা ও আলীকদম এবং কক্সবাজারের পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও মহেশখালীসহ ৬ উপজেলার মানুষজন প্রতিদিন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অল্প সময়ের মধ্যে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ সয্যার হাসপাতালে উন্নীতকরণে পদক্ষেপ নেবে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে শুরু হয়ে ২০২২ সালে কক্সবাজার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১০০ সয্যা বিশিষ্ট চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন এবং চিকিৎসক নার্স কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন হাসপাতাল কমপ্লেক্স ও প্রয়োজনীয় ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণ হয়ে গেলেও ১০০ শয্যা হাসপাতাল চালু করার প্রশাসনিক অনুমোদন এখনও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গৃহীত হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান ৫০ শয্যা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দকৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও কনসালটেন্ট না থাকায় রোগীর চাপে কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।