উচ্ছেদ অভিযানের এক সপ্তাহ না পেরোতেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে পুনরায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার ঘটনা ঘটেছে। তবে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে বালিয়াড়িতে বসানো শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
অভিযান চলাকালে যেসব স্থাপনার মালিককে পাওয়া যায়নি, সেগুলো ভেঙে ফেলে ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদে গত ১২ মার্চ অভিযান শুরু করে প্রশাসন। টানা পাঁচ দিনের অভিযানে সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট থেকে উচ্ছেদ করা হয় ৬৩০টি স্থাপনা। এরপর গত রোববার সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকতের উচ্ছেদকৃত বালিয়াড়ি যাতে পুনরায় দখল না হয়। সে বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
তবে নির্দেশনার একদিন পরই সুগন্ধা পয়েন্টের ঝাউবাগান ও মারমেইডের সামনের বালিয়াড়িতে আবারও স্থাপনা বসানো হয়। এতে মঙ্গলবার দুপুরে ফের অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন। প্রথমে ঝাউবাগান এলাকায় বসানো স্থাপনাগুলো ভেঙে ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় অনেক ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগেই তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেন। পরে মারমেইড এলাকার বালিয়াড়িতে উচ্ছেদে গেলে কিছু ব্যবসায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়ান। প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এ সময় একজনকে আটক করা হয়।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকলে তাদের পক্ষে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ব্যবসায়ী জাঙ্গাগীর আলম বলেন, “আমরা এখন দিশেহারা অবস্থায় আছি। একদিকে বসতে দিলে অন্য জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও স্থায়ীভাবে বসার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। উচ্ছেদের সময় আমাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি-আমাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক, যেন আমরা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবো তা বুঝতে পারি।
আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। আজ যদি ব্যবসা করতে না পারি, তাহলে আগামীকাল আমাদের খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়বে।”
সুগন্ধা বিচ মার্কেট সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম বলেন, “জায়গা না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে গাড়ি রাখছি। কিন্তু সেখানেও উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এত গাড়ি রাখার জন্য আমাদের কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। ঈদ মৌসুমে পর্যটকের চাপ বেশি-রাস্তায় গাড়ি রাখলে চলাচল ব্যাহত হয়, আবার বিকল্প জায়গাও দেওয়া হচ্ছে না।
আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি। পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। পরিবার নিয়ে ঈদও ভালোভাবে করতে পারিনি। এখন কোথায় যাব, কী করবো-সে দিশা পাচ্ছি না।”
উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা না বললেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান নিশ্চিত করেছেন-শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি জানান, বালিয়াড়িতে আর কোনো স্থাপনা বসাতে দেওয়া হবে না।
এদিকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, বালিয়াড়ি দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
কক্সবাজার কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, “জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে এমন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কোনোভাবেই বালিয়াড়ি পুনরায় দখল করা না যায়। একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। সৈকতকে পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় রাখতে ব্যবসায়ী মহল এবং প্রশাসন—উভয় পক্ষকেই সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে হবে।”
এর আগে গত ৯ মার্চ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্রসৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের ঘোষণা দেন।