স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো পূর্ণমন্ত্রী পেলো কক্সবাজারবাসী। কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি শপথবাক্য পাঠ করেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সকালে তিনি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুখকে ৯৫ হাজার ৮৩০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আহমদ। পর্যটননির্ভর জেলা কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন থেকে তিনি এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে সালাহউদ্দিন আহমদ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনিই প্রথম কক্সবাজার জেলা থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি।
বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক পথচলা
১৯৬২ সালের ৩০ জুন তৎকালীন চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। পিতা মৌলভী ছাঈদুল হক ও মাতা বেগম আয়েশা হকের সন্তান তিনি।
১৯৭৭ সালে পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৮৪ সালে এলএলবি (সম্মান) এবং ১৯৮৬ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৫ সালের ৭ম বিসিএস (প্রশাসন) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৮ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং একই বছরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি গুমের শিকার হন এবং ৬২ দিন পর ভারতের শিলংয়ে তার সন্ধান মেলে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় এক দশক পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।
সাম্প্রতিক এক নির্বাচনি সভায় তিনি বলেছিলেন, “আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না। আমাকে গুম করা হয়েছিল হত্যার উদ্দেশে। আল্লাহ আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন—এ জীবন দেশের মানুষের সেবার জন্য”।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, “এটি কক্সবাজারবাসীর জন্য গৌরবের দিন। আমরা একজন অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতাকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি”।
ব্যক্তিজীবনে চার সন্তানের জনক সালাহউদ্দিন আহমদ। তার স্ত্রী হাসিনা আহমদও ২০০৮ সালের নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।