দেশের আগামীর অর্থনীতির প্রবেশদ্বার ও ব্লু-ইকোনমির প্রধান কেন্দ্র মহেশখালী-কুতুবদিয়া অঞ্চলের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং চলমান জাতীয় মেগা প্রকল্পগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও স্থিত কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক, ওএসপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি-এর সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্র অঞ্চল এবং উপকূলীয় জনপদের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে সাগরে মৎস্যজীবীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জেলেদের সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ এবং সমুদ্রপথে ক্রমবর্ধমান জলদস্যুতা ও ডাকাতি কঠোর হস্তে দমনের বিষয়টি আলোচনায় সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়। সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ উপকূলীয় অঞ্চলে মাদক চোরাচালান এবং মানব পাচারের মতো অপরাধ দমনে কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টহল জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থান ও তৎপরতা নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়টি তিনি কোস্টগার্ড প্রধানের দৃষ্টিগোচর করেন।
কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এমপি আলমগীর ফরিদ বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এলএনজি টার্মিনালের মতো কয়েক লক্ষ কোটি টাকার জাতীয় মেগা প্রকল্পগুলো এ অঞ্চলের তথা বাংলাদেশের অর্থনীতির ভাগ্য বদলে দিচ্ছে। তাই এসব জাতীয় সম্পদের নিবিড় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা অপরিহার্য।
এমপির উত্থাপিত বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক। তিনি সংসদ সদস্যকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে আশ্বস্ত করেন যে, উপকূলীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মহাপরিচালক দ্রুত সময়ের মধ্যে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সুবিধাজনক স্থানে কোস্টগার্ডের নতুন ঘাঁটি স্থাপনসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে নজরদারি ও তদারকি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
বৈঠকটি সমন্বয় করেন নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা কমান্ডার ইফতেখার হাসান (সি.), পিএসসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন জনপ্রতিনিধি এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানের এই সমন্বিত উদ্যোগ মহেশখালী-কুতুবদিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশকে আরও সুসংহত করবে।