স্বাধীনতার অর্থ যা ইচ্ছা তা বলা বা যা ইচ্ছা তা করা নয়। স্বাধীনতার অর্থ আইনতঃ যা করা উচিত তা করা, যা করা উচিত নয় তা না করা। আইন কি? একটা গণতান্ত্রিক দেশে সংবিধানই হচ্ছে প্রধান আইন, সবচেয়ে বড় আইন। তারপর দেশে প্রচলিত প্যানেল কোড,ফৌজদারী কার্যবিধি ইত্যাদি অন্যান্য লিখিত আইন আছে। দেশের সকল নাগরিককে সংবিধানসহ দেশে প্রচলিত সকল আইন অবশ্যই মানতে হবে,সম্মান করতে হবে।
এই উপমহাদেশে তরুণ সমাজ দেশের নেতা-নেত্রী ও অভিনেতা-অভিনেত্রীকে পোষাকআশাকে, চালচলনে, কথাবার্তায় অনুসরণ,অনুকরণ করতে দেখা যায়। দেশের নেতারা প্রকাশ্যে আইন অমান্য করলে সাধারণ মানুষও তা অনুকরণ করেন। কথা বলার স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা,মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা কি? আমাদের দেশের প্রধান আইন সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা,বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে বা আদালত অবমাননা,মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে নাগরিকের চিন্তা,বিবেক ও কথা বলার,মতামত প্রকাশ করার,সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চিয়তা প্রদান করা হয়েছে। দেশের মধ্যে গৃহযুদ্ধ,সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা,প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে বা ভিন্নমতের কোন পীরের আস্থানা আক্রমণ করে হত্যা করতে পারে এমন কোন উসকানীমূলক কথা বলা যাবে না, লেখা যাবে না,প্রকাশ করা যাবে না। করলে তা হবে অপরাধ। আবার দেশে কিছু অলিখিত আইন ও নৈতিক মূল্যবোধ আছে। দেশে প্রচলিত কোন ধর্মই নিজের পিতামাতা,বড় ভাই,বড় বোন,মহিলা,বয়স্ক প্রবীণদের সম্পর্কে বা মৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে অশালীন কথাবার্তা বলা বা গালাগালি করা বা অসম্মান করা অনুমোদন করে না।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের আমলে লাগামহীন দুর্নীতি,লুটপাট,বিদেশে টাকা পাচার,ভিন্ন মতের মানুষ দমন, গুম-খুন করা হয়েছিল বিধায় সদলেবলে তাকে ৫আগস্ট,২০২৪ বিদেশে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। পলাতক অবস্থায় তাদের বিচার হচ্ছে, দন্ডাদেশ হচ্ছে। ড. ইউনুসের অস্থায়ী উপদেষ্টা সরকার ’মবতন্ত্র’কে বাধা না দিয়ে উৎসাহীত করায় নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না প্রতীয়মান হচ্ছে। এ দেশের হতভাগ্য সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন সবকিছু হচ্ছে রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে, প্রশ্রয়ে। প্রচলিত আইন ভঙ্গ করাই অপরাধ। অপরাধ করে বিচারের ও শাস্তির সম্মূখিন না হয়ে প্রশংসিত হলে, প্রমোশন পেলে, পুরস্কৃত হলে অপরাধীরা উৎসাহীত হবে এবং আরো নুতন করে অনেকে অপরাধ করতে বেপরোয়া হবে, তা স্বাভাবিক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কটুক্তি,অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য,বক্তব্যে কোন লাগাম নাই। ভুয়া তথ্য প্রচার ও রাজনৈতিক নেতাসহ বিশিষ্টজনদের চরিত্রহনন এখন চরমে। রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরাও রেহাই পাচ্ছেন না। দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কারো বিরুদ্ধে অশোভন, অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য না করার নীতি সকলের জন্য অনুকরণীয় হওয়া উচিত বলে শান্তিপ্রিয় দেশবাসী মনে করেন। দেশের মানুষ রাজনীতির নামে উগ্রতা,উদশৃঙ্খলতা,স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি, হানাহানি,আইনহীনতা, বিচারহীনতা,মবতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র প্রত্যাশা করেন না। জনগণ স্বাধীন নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ,আইনের শাসন,দুর্নীতিমুক্ত ও দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন এবং ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য দেখতে চান। রাজনীতি,অপরাজনীতি,গরম-নরম বক্তৃতা,৭১এর চেতনা ও ২৪ এর চেতনার চেয়ে গরীবের জন্য পেটের ভাত অনেক বেশী প্রত্যাশিত, বড় ও জরুরী। মাননীয় নেতাদের শব্দ-বোমা,শব্দ-সন্ত্রাস দেশের সাধারণ মানুষের উদ্বেগ,হতাশা ও অশান্তি বৃদ্ধি করে। দয়া করে দেশের সদা-প্রতারিত, সহজ,সরল,শান্তিপ্রিয়,নিরীহ মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন। বার বার নেতাদের কথা বিশ্বাস করে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে গুলি খেয়ে আহত-নিহত হওয়ার জন্যই কি তাদের জন্ম হয়েছে? এ দেশে জন্মই কি অজন্ম পাপ?
লেখক: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এডভোকেট