কক্সবাজারে বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে-মোটেলে বেড়েই চলেছে পরিশোধিত পানির চাহিদা। ব্যবহারের পানিও কোথাও লবণাক্ত হয়ে গেছে, কোথাও আবার আয়রনের সমস্যা। সুপেয় পানির সংকট দিন-দিন তীব্র হওয়ায় বাসা-বাড়িতে খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, কক্সবাজার পৌর এলাকায় ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে ৬ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এখন ৯০ থেকে ১১০ ফুট গভীরে গিয়ে স্বাদু পানি পাওয়া যাচ্ছে, যা এক দশক আগেও ছিল অনেক কম গভীরে। এরও আগে সুপেয় পানির কোন সংকট ছিল না। অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এর ফলে সুপেয় পানির এ সংকট তৈরি হচ্ছে। এছাড়া শহরের কিছুকিছু এলাকায় ৪০০ ফুটের অধিক গভীরে গিয়েও সুপেয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে পানি সংকটের কারণে অনেকেই একই স্থানে দীর্ঘদিন থাকছেন না। বারবার বাসা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। বাসা নেওয়ার আগেই বাসার মালিকের কাছে জানতে চান পানির কোন সমস্যা আছে কিনা।
গাড়ির মাঠে বসবাসরত নুরুল আবচার বলেন, 'খাওয়ার পানি কিনে খেতে হয়। এছাড়া বাসায় ব্যবহারের পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। গত দুই বছরে ৩ বার বাসা পরিবর্তন করেছি। এটি বড় সসম্যা। এই সমস্যা সমাধানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া দরকার।'
কক্সবাজারে সুপেয় পানির সংকট তীব্র হওয়ায় শহরে গড়ে উঠেছে পানি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। ওখানে পরিশোধিত পানি পর্যটন এলাকাসহ সর্বত্র পানির চাহিদা মেঠাচ্ছে। পৌরসভা কর্তৃক সরবরাহকৃত পানিতে ময়লা থাকায় মানুষ খাওয়ার পানির চাহিদা মিঠাচ্ছে পরিশোধবিত পানি দিয়ে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্রান্ডের বোতলজাত পানির চাহিদাও ব্যাপক।
বোতলজাত পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, প্রতিদিন হোটেল-মোটেল জোনের একটি অংশে প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকার পানি সরবরাহ করতে হয়। পর্যটন মৌসুমে সেই চাহিদা বাড়ে আরো ৪/৫ গুণ।
কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুবেল বড়ুয়া বলেন, '১৪/১৫ বছর আগে যখন পৌরসভায় নয়টি পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়, তখন ১৫০ থেকে ২০০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেত। এখন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ ফুট গভীরেও সুপেয় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পাওয়া গেলেও তা মানসম্মত নয়। মূলত রোহিঙ্গা আসার পর থেকেই পানির চাহিদা আরো বেড়ে গেছে। কক্সবাজার শহর থেকেও প্রথম দিকে পানি সরবরাহ করা হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।'
জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে গৃহীত প্রায় দেড়শত কোটি টাকার কক্সবাজার শহরে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পটি চালু হলে কক্সবাজার পৌরসভার চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ করবে। ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি প্রতি ঘন্টায় ১০ লক্ষ লিটার পানি পরিশোধন করতে সক্ষম হবে।