ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে দিনভর প্রতিধ্বনিত হলো বঙ্গোপসাগরের কলতান আর পাহাড়-সমুদ্র ঘেরা কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। ‘কক্সবাজার স্টুডেন্টস্ ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর উদ্যোগে আয়োজিত নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও ঐতিহ্যবাহী মেজবানের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস এলাকায় তৈরি হয়েছিল একখণ্ড কক্সবাজার। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে কৃতি শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।
উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবাইদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে কক্সবাজারের কয়েক শ’ মেধাবী শিক্ষার্থীর পদচারণা জেলার আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। মেধাবীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ না থেকে সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলার আটটি উপজেলা থেকে আসা ঢাকা বিAশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫০ জন শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৮০০ জন অংশগ্রহণ করেন। মিলনমেলাটি জেলাবাসীর পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুসংহত করে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি মোর্তজা হোসেন শাফি এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে সূচিত এই অনুষ্ঠানে অতিথিদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুরো আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল চট্টগ্রামের বিশ্বখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ব্যস্ত ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজ জেলার খাদ্যাভ্যাস ও আভিজাত্যকে নতুন করে পরিচিত করে তোলে। মেজবান পরবর্তী সাংস্কৃতিক পর্বে কক্সবাজারের শিক্ষার্থীরা আঞ্চলিক গান, কবিতা আবৃত্তি ও বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করেন। বিশেষ করে কক্সবাজারের চাটগাঁইয়া আঞ্চলিক ভাষায় গাওয়া গানগুলো উপস্থিত দর্শকদের মোহিত করে। অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনকে প্রাণের মেলা হিসেবে অভিহিত করে প্রতি বছর এমন মেলবন্ধন বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।