ঘাট, সেতু ও বিভিন্ন হাট-বাজারে সরকার নির্ধারিত টোলের তালিকা ঝুলিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে সরকার নির্ধারিত টোলের চাইতে ১০-১২ গুণ বেশী আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে ইজারা নিয়ে বেশী টাকা আদায় করা হচ্ছে ভোক্তাদের কাছ থেকে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কক্সবাজার জেলায় ৯টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভায় মোট ১৭৫টি হাট-বাজার রয়েছে। এছাড়া ঈদুল আযহায় ৯৪টি বসে পশুর হাট। ফেরীঘাট রয়েছে ৫টি।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সবকটিতেই আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। প্রতিনিয়ত চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মহেশখালী-কক্সবাজার ও কালারমার ছড়া-ধলঘাটা ঘাটের যাত্রীরা। কক্সবাজার ৬ নং ঘাটা ও বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সরকার নির্ধারিত টোলের যে তালিকা রয়েছে তার চাইতে ক্ষেত্র বিশেষে ১২-১৫ গুণ বেশী টোলও আদায় করা হচ্ছে। যার ফলে প্রতিদিন টোল আদায় কেন্দ্রে ব্যবসায়ি ও যাত্রীদের সাথে ঝগড়া লেগেই থাকে। সরকার নির্ধারিত টোলের তালিকা মতে একটি মোটর সাইকেল থেকে ৫ টাকা, একটি জীপ কিংবা মোটর কার থেকে ২০ টাকা। এছাড়া বাইসাইকেল থেকে ২টাকা টোল আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে। বাস্তবে আদায় করা হচ্ছে ১৫-২০ গুণ বেশী। একই ভাবে বাড়তি টোল আদায় করা হচ্ছে কুতুবদিয়ার দুইটি ঘাটে। মহেশখালী-কক্সবাজার ঘাটে একটি মোটর সাইকেল ৫ টাকার স্থলে ৫০-১০০ টাকা ও একটি বাইসাইকেল থেকে ২ টাকার স্থলে ৫০ টাকা টোল আদায় করার দৃষ্ঠান্তও রয়েছে। সন্ত্রাস ও ডাকাতির কারণে ধলঘাটা-কালার মারছড়া ঘাট বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা বাড়তি টোল আদায়ের ব্যাপারে প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ করে গেলেও এই অনিয়মের কোন সুরাহা হয়নি।
কুতুবদিয়া বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাইছারুল ইসলাম বলেন, মগনামা থেকে বড়ঘোপ আসতে উভয় ঘাটেই টাকা দিতে হয়। কিন্তু সরকার নির্ধারণ করেছে ৫ টাকা করে। এখন দুই জেটিতে ৫ টাকা করে ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একটি মুরগি পারাপার করতেও ১০ টাকা দিতে হয়। মানুষ নিরুপায় হয়ে বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে।
উখিয়া কোট বাজার এলাকার মিনারেল ওয়াটার সাপ্লাইয়ার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ৩-৪ গুণ বেশী মূল্যে বাজার ইজরা নিয়ে যেভাবে পারে ইচ্ছেমত টোল আদায় করা হয় সাধারণ ব্যবসায়ি ও ভ্রাম্যমান ব্যবসায়িদের কাছ থেকে। টোল আদায়ের জন্য আরো কয়েক দফা উপইজারা দেওয়া হয়। যার ফলে বাড়তি টাকার চাপ এসে পড়ে ভোক্তাদের উপর।
কক্সবাজার সিটি কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল হাসেম জানিয়েছেন, ফেরীঘাট ছাড়াও জেলার বিভিন্ন হাট বাজার অতিরিক্ত মূল্যে ইজারা নিয়ে সেই টাকা লাভসহ উসুল করা হয় ভোক্তাদের কাছ থেকে। ইজরাদার ব্যবসায়িদের কাছ থেকে বেশী টাকা আদায় করলে ওই চাপ পড়ে ভোক্তাদের উপর। যে বাজার ৫ লাখ টাকা ইজরা হওয়ার কথা সে বাজার ইজরা হচ্ছে ৪০-৪৫ লাখ টাকা। যা শূনে অনেকেই অবাক হচ্ছেন। একই কায়দায় কোরবানীর পশুর হাটও অতিরিক্ত টাকায় ইজারা নিয়ে বাড়তি হাসিল আদায় করা হয়।
এদিকে কালারমার ছড়া-মাতারবাড়ি সেতুতে টোল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে 'আমরা মহেশখালী' ব্যানারে বানববন্ধন করেছে। মহেশখালী সেতুও কালারমারছড়ায় পড়েছে। ওই সেতুতে টোল আদায় করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেওয়া সাংবাদিক রকিয়ত উল্লাহ বলেন, এক ইউনিয়নে দুইটি সেতুতে টোল আদায় করা অন্যায়। যেকোন একটিতে টোল আদায় করা যাবে। আমরা অভিলম্বে সরকারের টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
বিআইডব্লিউটিএ এর পোর্ট অফিসার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াকিল জানান, ঘাটের বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে আমাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তারপর ব্যবস্থা নিতে পারব। এছাড়া অতিরিক্ত টোল আদায় করলে থানায় অভিযোগ করা যায়। অথবা ইউএনও বরাবর অভিযোগ করলে প্রতিকার পাওয়ায় যাবে। প্রমান ছাড়া কিছুই করার নেই।