ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলে তার মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংসদ-সংক্রান্ত কাজ কে করবেন, তা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুপস্থিত থাকলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সংসদ বিষয়ক কার্যাবলি নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী সম্পাদিত হবে।
অর্থাৎ সংসদে প্রশ্নোত্তর, প্রস্তাব, বিল বা অন্য সংসদ-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী উপস্থিত না থাকলে তার পক্ষে নির্ধারিত বিকল্প মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী কাজ করবেন।
প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর অধীন দপ্তরগুলোর বিকল্প দায়িত্ব আলাদা করে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংসদীয় দায়িত্ব পালন করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব থাকবে সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর।
বর্তমান সরকারে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, আর সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুপস্থিত থাকলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংসদ-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
একইভাবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলে সেই সংসদীয় কাজ করবেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেও আলাদা বিকল্প রাখা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের শুরুর পরের সরকারি বিন্যাসে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। গেজেটে বলা হয়েছে, তিনি অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কাজ করবেন, আর বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রশ্নোত্তর ও সংসদ-সংক্রান্ত কাজ সম্পাদন করতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যুগপৎ অনুপস্থিত থাকলে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আর তার অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রশ্নোত্তর প্রদান এবং সংসদ সম্পর্কিত কার্যাবলি সম্পাদন করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে গত ১২ মার্চ। ওই দিন হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
একই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সভা পরিচালনার জন্য সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যও মনোনীত করা হয় সেদিন। নতুন সংসদ শুরুর কয়েক দিনের মাথায় এবার মন্ত্রীদের সংসদীয় বিকল্প দায়িত্ব গেজেটের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হল।
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় কোনো মন্ত্রী বিদেশ সফরে, অসুস্থতা বা অন্য কারণে অনুপস্থিত থাকলে সংসদের কার্যক্রম সচল রাখতে তার মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর, বিল, প্রস্তাব ও অন্যান্য কাজের জন্য বিকল্প দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়।
মঙ্গলবারের প্রজ্ঞাপনে সেই ব্যবস্থাকেই একসঙ্গে সাজিয়ে প্রকাশ করেছে সরকার। এতে সংসদে কার পক্ষে কে কথা বলবেন, কোন মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নের জবাব দেবেন, আর কোন মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প দায়িত্ব কার হাতে যাবে, সে বিষয়ে প্রশাসনিক স্পষ্টতা এল।