কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে হাজার হাজার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা গুরামিয়া গ্যারেজ এলাকায় কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী পুরুষ এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মার্কেট নির্মাণ কাজে স্থানীয় বিএনপি নেতা মনজুর আলম মেম্বার বাধা প্রদান করেন। এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একজন হিন্দু নারীকে বাদী বানিয়ে ২৮ জানুয়ারি উখিয়া থানায় মসজিদ কমিটির সভাপতি ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী, সাংবাদিক জালাল উদ্দিন কাউছার ও এনসিপি নেতা রফিক উদ্দিন সহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এই মামলার প্রতিবাদে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী পুরুষ একত্রিত হয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিল্পী কর্মকার নামের হিন্দু নারীকে ব্যবহার করে কিছু খারাপ মানুষ চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। শিল্পি কর্মকার যে মামলাটি করেছেন সেটি সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে শিল্পী কর্মকার মামলা প্রত্যাহার না করলে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারী দেয়া হয় মানববন্ধনে।
মানববন্ধনে বক্তব্যে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন দুর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদুল শর্মা বাবু বলেন, ইমরুল কায়েস চৌধুরী গত চার বছর ধরে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর সময়ে তিনি কোনো সাম্প্রদায়িক বিভেদ নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখেছেন। এমন একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শিল্পী কর্মকারের মিথ্যা মামলা আমাদের সবাইকে মর্মাহত করেছে।
রুমখা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া বলেন, মসজিদের মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়ে কিছু মানুষ চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আর এই ষড়যন্ত্রের ঢাল হয়েছে শিল্পী কর্মকার। তিনি শিল্পী কর্মকারকে মিথ্যা মামলা তুলে নেয়ার আহবান জানান।
কালি মন্দির কমিটির সভাপতি অরবিন্দ ধর বলেন, শিল্পী কর্মকার ও তার স্বামী সুরেশ কর্মকার হিন্দু সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করেছেন। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হলে আমরা সবাই একসাথে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।
উখিয়া উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক সুমন শর্মা বলেন, মরিচ্যা বাজারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী কোন কিছুই করেননি। উল্টো সংখ্যালঘু পরিচয়ে দুইজন ব্যাক্তিকে ব্যবহার করে একটি মহল চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েসকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পশ্চিম পাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি অজিত শর্মা, নিতাই শীল কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি অজিত শর্মা, পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার সমাজসেবক কাজল বড়ুয়া, মিটন শর্মা প্রবু, অনিল বড়ুয়া, চৌধুরী পাড়া বৌদ্ধবিহার সেবা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুনিল বড়ুয়াসহ বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।