কুতুবদিয়ায় ভারী বর্ষন আর অতিরিক্ত জোয়ারের ধাক্কায় ভাঙনে অর্ধশত বাড়ি সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরো ৫০টির মত কাচা বাড়ির অর্ধেক যেন ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে ভাঙনের অপেক্ষায়। বুধবার বিকালে এমন করুণ চিত্র দেখা যায় উপজেলা সদর বড়ঘোপ রোমাই পাড়া ও আলী আকবর ডেইলের সাঁইটপাড়ায়।
রোমাই পাড়ার পঞ্চান্ন বছরের বিধবা নারী মোস্তফা বেগম বলেন, 'গত এক সপ্তাহের মধ্যে ভাঙনে বসতভিটা সাগরে চলে গেছে। এখন বাঁধ দিলে কি অইব, ঘর দিব হনে? ৭ জন মানুষ নিয়ে ভাতিজি রেখার বাড়িতে আশ্রয়ে আছি।'
একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী পারেছা বেগম পরিবারের ৬জন নিয়ে ৮দিন ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে আছে। রুবেল, আকিয়া বেগম, রুজিনা, কহিনুর আক্তার অর্ধেক বাড়ি হারিয়ে দিশেহারা। বাকি অর্ধেক রক্ষায় সামনে বাঁধ দিতে জিও ব্যাগ মিলছেনা বলে অভিযোগ করেন।
সাঁইট পাড়ার জামে মসজিদ এখন সাগর গর্ভে বিলীন। ৩০টি বাড়ির অধিকাংশই ভেঙে গেছে। তাবালের চর, বায়ুবিদ্যুৎ এলাকায় ভাঙন দীর্ঘদিনের। এসব একাকায় জরুরি মেরামতে জিও ব্যাগ ফেলার প্যাকেজ কাজ শুরু হয়েছে।
রোমাই পাড়া ও সাঁইট পাড়ায় জরুরি জিও ব্যাগ ফেলার ঠিকাদারের প্রতিনিধি আব্দুল হামিদ জানান, নতুন ৩টি প্যাকেজের ১৯৬ মিটার কাজ চলছে। আরো রয়েছে আগের প্যাকেজের ৫০ মিটার। বায়ু বিদ্যুৎ এলাকায় একটি প্যাকেজ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বড়ঘোপ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল মালেক বলেন, রোমাই পাড়ায় শতাধিক বাড়ি সাগরে বিলীন। অনেকেই বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয়ে আছে। তাছাড়া ১০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বাদ রেখে জরুরি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। অন্তত ৪টি করে জিও ব্যাগ ফেলার প্রয়োজন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। এটি তদারকির জন্য সহকারী কমিশনারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আশ্রয়হীন পরিবারগুলোকে আশ্রয়ন প্রকল্পের খালি ঘরে পূনর্বাসন করা যায় কিনা,সেটা বিবেচনা করা হচ্চে। যদিও সেরা সময়সাপেক্ষ।