কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যা ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ৭ ঘন্টার চেষ্টায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লারে কোনো ক্ষতি হয়নি। স্বাভাবিক রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে মহেশখালী, চকরিয়া ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২টিসহ ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে। আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার জানান, আগুন ঘটনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোনো প্রকার ক্ষতি হয়নি। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, তখন জানা যাবে কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পথশিশুদের দৌরাত্ম রয়েছে। তারই মূলত আগুন লাগিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত এবং পুকুর সদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত।