চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল করিম সাঈদীর (৫৩) জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। রবিবার দুপুরে (১ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সাঈদী তার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। শুনানী শেষে আদালত তার জামিন বাতিল করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফজলুল করিম সাঈদির আইনজীবী এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট গোলাম ফারুক খান কাইছার। তিনি বলেন, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদি একটি জিআর মামলায় আদালত কর্তৃক জামিনে ছিলেন।
তবে শাররীক অসুস্থতা জনিত কারণে তিনি ওই মামলার পরবর্তী দুই ধার্য্য তারিখে অনুপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে।
সর্বশেষ রোববার (১ ফেব্রুয়ারী তিনি আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন শুনানি শেষে তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা যায়, ৭ বছর পূর্বে চকরিয়া পৌরশহরের ৮নং ওয়ার্ডের স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা ইলিয়াছ মেম্বারের উপর হামলার ঘটনায় তার পুত্র রায়হান বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদীসহ ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলো। ওই মামলায় সাঈদী জামিনে ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ফজলুল করিম সাঈদী দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গত ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ফজলুল করিম সাঈদী র্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন। ওইসময় তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনী জেলা সদরের লালপুল এলাকা থেকে গ্রেফতার হন। সাঈদী প্রায় পাঁচ মাস ধরে কারাগারে ছিলেন।
জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে গত বছরের ৯ নভেম্বর এবং নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৩ নভেম্বর চকরিয়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এই দুই মামলায় ফজলুল করিম সাঈদীকে র্যাব-১৫ ও র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানকারী দল ফেনী সদরের লালপুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
ফজলুল করিম সাঈদী চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের স্টেশন পাড়ার মৃত ইছহাক কন্ট্রাক্টরের ছেলে।
ফজলুল করিম সাঈদী গত ২০১৯ সালে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান হন। এরআগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সাঈদী দুইবার চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন।