চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দিদারুল হক সিকদারকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় আদালতে জামিন শুনানী হয়নি। তবে আজ রবিবার তার জামিনের জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দিদারুল হক সিকদারের আইনজীবী এডভোকেট লুৎফুল কবির।
তিনি বলেন, সরকারি ছুটি থাকায় আদালত বন্ধ রয়েছে। দিদারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করে যৌথবাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিদারুল হক সিকদার কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পরপর দুইবার নৌকা প্রতীকে এবং শেষবার (২০২১ সালের নভেম্বর মাসে) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
তিনি চকরিয়া উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার কোনাখালী সিকদারপাড়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার জমিদার মৃত শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় ছিলেন দিদারুল হক সিকদার। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাংলাবাজার একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেছিলেন। ওইসময় যৌথবাহিনী সদস্যরা তাকে আটক করেন। পরে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।
চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো.ফরিদ হোসেন বলেন, দিদারুল হক সিকদার হত্যাসহ তিনটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এরমধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে হত্যার মামলাও রয়েছে। তাঁকে অনেক দিন ধরে খুঁজছিল পুলিশ।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, শুক্রবার বিকালে যৌথবাহিনীর অভিযানে কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার আটক করা হয়েছে। তাঁকে রাত নয়টার দিকে যৌথবাহিনী থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। শনিবার বিকালে দিদারুল হককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।