কাজে আসেনি প্যারাগুয়ের লো-ব্লক ডিফেন্স। ১-০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই গোলে চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ৭ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন ফরাসি তারকা। পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের লড়াইও আরও জমিয়ে তুলেছেন তিনি।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স স্বাভাবিকভাবেই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামে। তবে লাতিন আমেরিকার দলটি এমবাপ্পে, দেম্বেল, ওলিসেদের সহজে সুযোগ দিতে রাজি ছিল না। পুরো ম্যাচজুড়ে রক্ষণ গড়ে ফরাসি আক্রমণভাগকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে তারা।
শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। কিন্তু প্রতিপক্ষের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে বারবার ব্যর্থ হয় তারা। এবারের বিশ্বকাপে তুলনামূলক ছোট দলগুলো লো-ব্লক ডিফেন্সে বড় দলগুলোর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এর আগে কেপ ভার্দেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একই কৌশলে সফল হয়েছিল। সেই চিত্রই দেখা গেল এই ম্যাচেও।
প্যারাগুয়ে আক্রমণে খুব একটা যেতে না পারলেও রক্ষণ সামলেছে দারুণভাবে। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে ফ্রান্স একের পর এক আক্রমণ চালায়। ৩৬তম মিনিটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন প্যারাগুয়ের ডি-বক্সের বাইরে এমবাপ্পেকে ফাউল করা হয়। একপর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কাউকেই কার্ড দেখাতে হয়নি। ফ্রান্সের দাপট থাকলেও গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধেও কাঙ্ক্ষিত গোল না পেয়ে একাদশে পরিবর্তন আনেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। মাঠে নামানো হয় দিজিয়ে দুয়েকে। আর তাতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে গিয়ে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন দুয়ে। শুরুতে রেফারি পেনাল্টি না দিলেও পরে ভিএআর দেখে উজবেকিস্তানের রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।
পেনাল্টি নেয়া নিয়েও কিছুটা নাটকীয়তা ছিল। প্রথমে দেম্বেলে বল হাতে নিলেও পরে সেটি এমবাপ্পের হাতে তুলে দেন। সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি ফরাসি তারকা। দুর্দান্ত শটে প্যারাগুয়ের আলোচিত গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। তবে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের সামনে তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ দিকে আরেকটি গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু গোলরক্ষক গিলের দারুণ নৈপুণ্যে দুইবার চেষ্টা করেও বল জালে জড়াতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।