স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সফরকে কেন্দ্র করে টানা দুই দিন কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত হকারমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে তার সফর শেষ হতেই ফুটপাত আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানেই পর্যটন নগরীর সড়কগুলোতে ফিরে এসেছে পুরানো সেই বিশৃঙ্খল চিত্র।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঘুনগাছ তলা, বিমানবন্দর সড়কের মোড়, বনবিভাগের সামনে, পৌরসভা চত্বর ও লালদীঘির পাড় এলাকায় ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়। ফুটপাতগুলো ছিল একেবারেই হকারমুক্ত, কোথাও ছিল না কোনো অবৈধ দোকানপাট। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্বস্তিতে ছিলেন সাধারণ মানুষ
শহীদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামির ও হামীম প্রতিদিনের মতো ইজিবাইকে করে এসে নামেন ঘুনগাছ তলায়। তারা জানান, গত দুই দিন এলাকাটির পরিবেশ ছিল খুবই ভালো।
তারা বলে, এখানে ফুটপাতে কোনো গাড়ি নেই, দোকানপাটও নেই। তাই অতিরিক্ত হর্ন শোনা যাচ্ছে না এবং ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটা যাচ্ছে। আমরা চাই প্রতিদিনই এমন পরিবেশ থাকুক।
ঘুনগাছ তলা থেকে একটু সামনে বনবিভাগের সামনের ফুটপাতেও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে ছিল না হকারদের দৌরাত্ম্য। স্থানীয় বাসিন্দা রানা পাল বলেন, ‘ফুটপাত ফাঁকা থাকলে সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য খুবই সুবিধা হয়। এখন যেহেতু হকারদের দখল নেই, তাই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করা যাচ্ছে।’
বিকেলেই ফিরল পুরোনো চিত্র
তবে সাধারণ মানুষের এই স্বস্তির দৃশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিকেল না হতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এসব পয়েন্টে আবারও দেখা যায় আগের চিত্র। ফুটপাত দখল করে বসতে শুরু করেন হকাররা।
স্থানীয়রা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে আসায় প্রশাসনের তৎপরতায় ফুটপাতগুলো হকারমুক্ত ছিল। কিন্তু তিনি বিকেলে কক্সবাজার ত্যাগ করার পরপরই ফের হকারদের দখলে চলে যায় শহরের ফুটপাতগুলো।
ঘুনগাছ তলা এলাকার তরমুজ বিক্রেতা মোহাম্মদ রহিম বলেন, ‘আমি ফুটপাতে বসে তরমুজ বিক্রি করি। কিন্তু গত দুই দিন এখানে বসতে পারিনি। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আসায় পৌরসভা থেকে বসতে নিষেধ করেছিল। এখন তিনি চলে গেছেন, তাই বিকেল থেকে আবার দোকান বসিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমি না, গত দুই দিন বিমানবন্দর মোড়, ঘুনগাছ তলা ও বনবিভাগের সামনে প্রায় ৫০ জনের বেশি হকার দোকান বসাতে পারেনি। বিকেল থেকে আবার সবাই বসেছে।’
ক্ষুব্ধ নগরবাসী ও প্রশাসনের ভাষ্য
ফুটপাতগুলো পুনরায় হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও শহরবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের শহরে প্রতিদিনই যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসেন। কারণ তিনি এলেই ফুটপাতগুলো হকারমুক্ত থাকে।’
পথচারী মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘প্রশাসন চাইলে সবই সম্ভব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসায় ফুটপাতগুলো পরিষ্কার রাখা হয়েছিল। আমরা চাই ফুটপাতগুলো সবসময় হকারমুক্ত থাকুক, যাতে নিরাপদে চলাফেরা করা যায়।’
সন্ধ্যায় ঘুনগাছ তলা এলাকায় কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এ সময় ট্রাফিক পুলিশের সদস্য জাকির বলেন, ‘ফুটপাত হকারদের দখলে থাকা প্রতিদিনকার চিত্র। হকার উচ্ছেদের দায়িত্ব মূলত পৌর কর্তৃপক্ষের। তারা আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সহায়তা করি।’
এ বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল চৌধুরী বলেন, ‘ফুটপাত পুরোপুরি হকারমুক্ত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনে তিনবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। একদিকে উচ্ছেদ করা হলে অন্যদিকে আবার হকাররা বসে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পৌরসভার কেউ হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয় না। যারা টাকা নিচ্ছে তারা চাঁদাবাজ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া পুলিশের দায়িত্ব। তবে ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে পৌর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’