চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারটি গাছ থেকে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি লাগোয়া উত্তর হারবাং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দিন স্থানীয় কিছু লোক লাগিয়ে দিয়ে দিনে দুপুরে গাছ কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরের পর কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং লালব্রীজের অনতিদূরে উত্তর হারবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে উল্লেখিত চারটি গাছ।
উত্তর হারবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমদ বিদ্যালয়ের জায়গা থেকে গাছ থেকে নিয়ে যাবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আমি বুধবার স্কুল টাইমে পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষনণ পাশাপাশি স্কুল অফিসের ওয়াইফাই লাগানোর কাজে ব্যস্ত ছিলাম। পরে জানতে পারি দুপুরের দিকে লোকজন লাগিয়ে দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর অংশের জায়গা থেকে চারটি ফুলগাছ ও ম্যালেরিয়া গাছ কেটে নিয়ে যায় পাশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, স্কুলের জায়গা থেকে গাছ কেটে লুটে নিয়ে যাবার ঘটনায় আমি এদিন বিকালে চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সরকারি প্রাইমারী স্কুলের জায়গা থেকে গাছগুলো কাটার সময় সেখানে সন্ত্রাসী মাস্তান টাইপের কিছু লোক উপস্থিত থাকায় ঘটনাটি সামনাসামনি দেখলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাইনি তাঁরা।
অভিযোগ অস্বীকার করে উত্তর হারবাং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, গাছগুলো আমি কাটিনি, কেটে নিয়ে গেছে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। একইসময়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র সংকটের কারণে গাছগুলো কেটে বিক্রি করে কাজ করা হয়েছে। আরও গাছ কাটা হবে।
তিনি দাবি করেন, এসব গাছ কাটার জন্য ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন রয়েছে। প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো একটি রেজুলেশনে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারিখে এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে স্কুলের গাছ নিলামের বিষয়টি লেখা থাকলেও গাছ কাটার বিষয়ে কোন অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
মাস্টার বেলাল উদ্দিন বলেন, উত্তর হারবাং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জায়গা থেকেই গাছগুলো কাটা হয়েছে, সেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা থেকে কোন গাছ কাটা হয়নি।
জানা গেছে, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী অশ্রেণীবদ্ধ বনভূমি, সামাজিক বনায়ন অঞ্চল,সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উন্মুক্ত স্থান থেকে গাছ কাটতে বনবিভাগের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেখানে উত্তর হারবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা থেকে গাছ কাটার বিষয়ে কোন ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার আবীর হাসান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, উত্তর হারবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা থেকে চারটি গাছ কেটে নিয়ে যাবার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক জানিয়েছে। আমি উল্লেখিত ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা থেকে গাছ কাটা ও নিয়ে যাবার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ঘটনা। তদন্ত সাপেক্ষে এবিষয়ে অনুমতি না থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।