বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ায় রেজু নদী ও খাল রক্ষা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দূষণ প্রতিরোধ এবং নদীভাঙনকবলিত জনপদ সুরক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সচেতনতামূলক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হেলপ কক্সবাজারের উদ্যোগে এবং এএলআরডি-এর সার্বিক সহযোগিতায় রেজু নদীর তীরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নদীর দুই পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও পরিবেশসচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রেজু নদী এ অঞ্চলের প্রকৃতি, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, বর্জ্য নিক্ষেপ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণে নদীটি আজ হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোত ও ভাঙনে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
নদী থেকে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বালু তোলার কারণে নদীর তলদেশের গঠন ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি নদীতে গৃহস্থালি বর্জ্য ও প্লাস্টিক ফেলা রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙনপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বৈজ্ঞানিক ও টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। উখিয়া উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন সিকদারসহ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারাও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে রেজু নদী রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ, অবৈধ বালু উত্তোলন চিরতরে বন্ধ করা, নদীদূষণ প্রতিরোধ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো জরিপ করে দ্রুত প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়।