সম্প্রতি বন্যায় কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিনামূল্যে উফশী জাতের আমন ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের তালিকা তৈরি করেছে কৃষি অফিস।
তালিকা মতে, ১০ হাজার ৭৭১ জন কৃষককে পাঁচ কেজি হারে উফশী আমন ধানের বীজ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৬৩ জন কৃষককে দেওয়া হয়েছে আমন ধানের চারা। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত সবজি চাষীদের মাঝে প্রনোদনার মাধ্যমে আগাম শীতকালীন শাক সবজির বীজ বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং আমন চাষে উৎসাহিত করতে আমন ধানের বীজ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে চকরিয়া, পেকুয়া, রামু উপজেলায় কৃষকের মাঝে প্রণোদনার বীজ, আমনের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে সরকার ও কৃষি বিভাগের দেওয়া বিনামূল্যে প্রণোদনা ( বীজ, সার ) পেয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, উচ্চমূল্যের বাজারে বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় আবাদের প্রাথমিক খরচ অনেক কমে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলার উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের এ প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি কৃষকদের যথাযথভাবে বীজ ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান জানান। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, এবারে জেলায় ১০ হাজার ৭৭১ জন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জনপ্রতি ৫ কেজি হারে ৫৩ হাজার ৮ শত ৫৫ কেজি স্বল্প মেয়াদী, আধুনিক ও এলাকা উপযোগী আমন ধানের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৯ টি উপজেলায় ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষকের ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে চকরিয়া ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষকের ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর, কুতুবদিয়া ৬ হাজার ৪১৫ জন কৃষকের ১ হাজার ১২০ হেক্টর, পেকুয়া ৭ হাজার ২০ জন কৃষকের ৫০০ হেক্টর, রামু ৪ হাজার ৮৭৫ জন কৃষকের ৩৪০ হেক্টর, মহেশখালী ৪ হাজার ৩২০ জন কৃষকের ২৩৭ হেক্টর,
টেকনাফ ৩ হাজার ১২০ কৃষকের ১৪০ হেক্টর, সদর ১ হাজার ১৬৬ জন কৃষকের ৮৮ হেক্টর, ঈদগাঁও ১ হাজার ৩০৪ জন কৃষকের ৭৫ হেক্টর এবং উখিয়া ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষকের ৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত মাসের ১৭ জুলাই চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যাকবলিত পাঁচ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ধানের বীজ ও চারা দেওয়া হবে।