প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেছেন, নতুন সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটন হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় টেকনাফকেও বিশ্বমানের পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এ অঞ্চলে পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে টেকনাফে সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্ক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি পার্কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো ও পর্যটন সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মুখ্য সচিব বলেন, সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্কের জন্য প্রায় এক হাজার একর জমির পরিকল্পনা ছিল। তবে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় এর প্রায় ৫০০ একর জমি সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট প্রায় ৫০০ একর জমিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে নৌপথে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিদর্শনকালে সাবরাং এলাকায় জেটি নির্মাণ নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক থেকে জেটি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবং কাজ শেষ করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। জেটিটি নির্মাণ হলে বড় লঞ্চ ও জাহাজ সেখানে ভিড়তে পারবে। এতে টেকনাফের সঙ্গে সেন্টমার্টিনের নৌ যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতের প্রসার ঘটবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
তিনি বলেন, সাবরাং এলাকায় হোটেল, মোটেল ও বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বিএম আবদুস সাত্তার, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার সহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে টেকনাফের পর্যটন অবকাঠামোর চেহারা বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে সাবরাং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।