মোহাম্মদ নোমান, ম্যানেজার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (কক্সবাজার শাখা)
প্রবাসী কর্মীরা অনেক সময় একদম শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ভিসা হাতে পাওয়ার পর ব্যাংকে ঋণের জন্য আসেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বেশিরভাগ প্রবাসী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করেই বিদেশে পাড়ি জমান। বিদেশ যাওয়ার আগে কোন কাজের ভিসা নিয়ে যাচ্ছেন, কাজের ধরন বা শর্তাবলী কী—সেসব বিষয়ে তারা সঠিক খোঁজখবর বা যাচাই-বাছাই করেন না।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রবাসীরা কোনো লিখিত চুক্তিপত্র এবংঅন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কেবল মৌখিক আশ্বাসে বিশ্বাস করে রিক্রুটিং এজেন্সি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে টাকা তুলে দেন। ফলে বিদেশে গিয়ে কাজ না পাওয়া বা প্রতারিত হয়ে দেশে ফেরার পর তারা এজেন্সি বা দালালের বিরুদ্ধে কোনো শক্ত আইনি বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন না।
প্রবাসীদের এই অসচেতনতার খেসারত কেবল তারা নিজেদের ভুলেই দেন না, বরং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়া ব্যাংক ঋণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে একধরনের ভুল ধারণা বা প্রচারণার অভাব রয়েছে; অনেকেই মনে করেন ব্যাংকের লোন হয়তো কোনো অনুদান, যা আর ফেরত দিতে হবে না।
একইসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নাম ভাঙিয়ে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও অনলাইন চক্রের মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রতারিত করার ঘটনাও ঘটছে, যা প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সার্বিকভাবে বিদেশ যাওয়ার আগেই তথ্যের সঠিক যাচাই, চুক্তিপত্র সংরক্ষণ এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রবাসীদের পর্যাপ্ত সচেতনতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।