কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগান উজাড় আর বালিয়াড়ি অবৈধভাবে দখল করে রাখা জমিতে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই আবারও দখল করে নিয়েছে দখলদার চক্রটি। শনিবার বিকালে উচ্ছেদ করা ঘেরা-বেড়া রবিবার বিকালের মধ্যে দিয়ে দিয়ে দেয়া হয়েছে। আগের সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির পাশা-পাশি সশস্ত্র নারী-পুরুষ পাহারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দখলের স্থানের আশে-পাশে স্থানীয় লোকজনকেও যেতে দেয়া হচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঝাউবাগান উজাড় করে তৈরি করা কয়েকটি ঘর উচ্ছেদ করলেও রবিবার সকাল থেকে নতুন করে আরও অন্তত ৫টি ঘর তৈরি করে নিয়েছে চক্রের নিয়োগ করা শ্রমিকরা। মৎস্য ঘেরের টিনের ঘেরা ভেঙে দেয়া হলেও এখন নতুন করে ঘেরা তৈরি শেষ করেছে। যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ৬-৭ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং দেশিয় দা, লোহার রড হাতে অন্তত ২০ জন নারী পাহারাদার দেখা যাচ্ছে। যারা আশে-পাশে টহল দিয়ে নতুন করে দখল অব্যাহত রেখেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে গত শুক্রবার দৈনিক কক্সবাজার এ একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ মতে, কক্সবাজার পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডে নাজিরারটেক এলাকার আগে বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বালিয়াড়ি ঘিরে তৈরি করা হয়েছে মৎস্য ঘের। বড় বড় জায়গা দখল করে প্লট আকারে ভাগ করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দখলবাজ চক্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মহেশখালীর বাসিন্দা সায়েম নামে এক ব্যক্তি। এছাড়া এছাড়া রয়েছে নাছির প্রকাশ মইগ্যা লেদু, আবুল কাশেম বাশিন্যা, মোহাম্মদ সালেক, আব্দুল কাদের, নিয়ামত উল্লাহ, জয়নাল প্রকাশ কম্বল নেতা, সাবেক কাউন্সিলর আক্তার কামাল, বনকর্মী মো: সেলিম, মোস্তাক, এমরান সহ আরো অনেকের নাম। তাদের মধ্যে রয়েছে বন পাহারাদার সহ রাজনৈতিক দলের পদ-পদবী ব্যবহার করা লোকজন।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে এ দখল কার্যক্রম চলছে। আগে যেখানে পূর্ববর্তী সরকারের নেতাকর্মীদের নাম শোনা যেত, বর্তমানে নতুন করে অন্যদের নাম উঠে এসেছে।
এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে শনিবার বিকাল ৩ টা থেকে সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজু বিন আফনান নেতৃত্বে বনবিভাগ অভিযান শুরু করে। অভিযানে ঝাউবাগান উজার করে ১ একরের বড় মৎস্য ঘেরটি চারিপাশের ঘেরা ভেঙে দেয়ার পর মৎস্য ঘেরটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে বালিয়াড়ি দখল করে প্লট আকারে ভাগ করা স্থান ও তৈরি ঘর ভেঙে দেয়া হয়।
বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে অভিযান বন্ধ করা হলেও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানিয়েছিলেন, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুরো এলাকার দখল উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত চলবে অভিযান। একই সঙ্গে দখলদারদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করার কাজ চলছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানের ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই নতুন করে দখলের বিষয়ে রবিবার সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজু বিন আফনান ও বনবিভাগের কক্সবাজার রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হককে ফোন করা হলে ফোন ধরেননি। ফলে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।