কক্সবাজার জেলার সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবার সরকারি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে হামের প্রকোপ বাড়ার পর চালু করা হয় বিশেষ ওয়ার্ড ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড’। ২০ শয্যার সেই হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মঙ্গলবার ৭৫ শিশুর ভর্তির তথ্য মিলেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, এক-একটি বেডে ২ থেকে ৪ জন শিশুকে শুইয়ে রেখে চলছে চিকিৎসা সেবা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিশেষ ওয়ার্ডটি প্রবেশে নানা কড়াকড়ি আরোপ করেছে। দায়িত্বরত চিকিৎসকের পক্ষে জানানো হয়, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের ‘লিখিত’ অনুমতি ছাড়া ফুটেজ বা ছবি নেয়া যাবে না। একই সঙ্গে বিস্তারিত তথ্য জানতেও আগ্রহী নন তারা।
বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে জানানো হয়, মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৭৫ শিশু সহ জেলার মোট ৭ টি হাসপাতালে ভর্তি আছে ১৪১ জন।
অন্যান্যদের মধ্যে চকরিয়ায় ১০, পেকুয়ায় ৬, উখিয়ায় ১৮, টেকনাফে ১১, রামুতে ৬ এবং মহেশখালীতে ১৫ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৬০ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর সময়ের মধ্যে ৬৬ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। গত ২৯ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত ১ মাস ৭ দিনে জেলায় এক রোহিঙ্গা সহ ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রামু উপজেলায় ৬ জন, কক্সবাজার সদর উপজেলা ২ জন, কক্সবাজার পৌরসভা, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও উখিয়ায় ১ জন করে ৪ জনের মৃত্যু হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে, গত ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৪৫৯ জন। এর মধ্যে ৩৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হয়। ঢাকা থেকে প্রেরিত নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জনকে হামে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে।