টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর কয়েকজন শিশুর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য বুধবার তিন সদস্যের মেডিকেল টিম পাঠিয়েছে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
সকাল আটটার দিকে চিকিৎসক নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে দলটি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে ১২০ শিশুর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে। আরও ১৮ শিশুর শরীরে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা পাওয়া গেছে।
চিকিৎসক নওশাদ আলম কানন বলেন, কিছু অভিভাবক খতনার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও ক্ষতস্থানের পরিচর্যা করেননি। এতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে ৫০ শিশু চিকিৎসা নেয়। হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা চিকিৎসক শহীদুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন শিশুর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণ ছিল। দুজনকে টেকনাফে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পরে দ্বীপেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক এনামুল হক বলেন, খতনার পর কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের জটিলতা হতে পারে। তবে ওই খতনা কর্মসূচির মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে আগে জানানো হয়নি।
গত রোববার সেন্ট মার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের মেডিকেল টিম ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করে।
শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, খতনার পর কয়েকজনের ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও পুঁজ দেখা দেয়। পরে কারও কারও রক্তক্ষরণও হয়।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ২১০ শিশুর খতনা করা হয়েছিল। দুই দিন পর ৫০ শিশু বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সেন্ট মার্টিন হাসপাতালে গেলে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নজরে আসে। এরপর মেডিকেল টিম পাঠানো হয়।
টেকনাফের ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে অব্যবস্থাপনা বা কারও গাফিলতির কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।