৫ লাখেরও বেশি মানুষের শহর পর্যটন নগরী কক্সবাজার। দিন দিন বিভিন্ন কারণে এই জনসংখ্যার পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রক্রিয়ায় বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। তার সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে বর্জ্যের পরিমাণও। এই বর্জ্য নিষ্কাশনের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল মানুষের গৃহস্থালির বর্জ্য প্রতিদিন এখানে সেখানে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। শহরের অলিগলিতে স্তূপে স্তূপে রাখা হয় বর্জ্য। পরে তা পচে-গলে চারপাশকে মারাত্মক দূষিত করে। বর্ষা মৌসুমে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ডাস্টবিন উপছে কঠিন বর্জ্য রাস্তার পাশে ড্রেনে পড়ে, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা কে সম্পূর্ণ অচল করে দেয়। বর্ষাকালে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ। বর্জ্য সংগ্রহ করে তা আবর্জনার স্তূপে পাঠানোর পরিবর্তে পরিকল্পিত আধুনিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি উঠলেও তা কখনো বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল-এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পেতে যাচ্ছে শহরবাসী। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে সদর উপজেলায় আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন তিনি। পরে গত ৭ সেপ্টেম্বরে জারি করা এক চিঠিতে কক্সবাজার সদর উপজেলায় আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য চিঠিটি পাঠানো হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার সদর উপজেলার বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সদর উপজেলায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ও আধুনিক কাঠামো গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।