দেশের লবণ শিল্পকে অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি থেকে রক্ষা, বিদেশ থেকে লবণ আমদানির চক্রান্ত নস্যাৎ এবং প্রান্তিক চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে (ভবন নং-৩) এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে এবং তাঁরই নেতৃত্বে কক্সবাজারের একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় লবণ মিল মালিকদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় প্রান্তিক লবণ চাষিদের চরম ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়ে বিদেশ থেকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়ায় লবণ আমদানির ষড়যন্ত্র চলছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশীয় শিল্প রক্ষা এবং মাঠে থাকা প্রান্তিক চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই জরুরিভিত্তিতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সংকট সমাধানে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে এবং প্রান্তিক চাষিদের দাবিগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি তুলে ধরতে এমপি আলমগীর ফরিদ রোববার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে আকাশপথে কক্সবাজার থেকে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান। এমপির একান্ত সচিব (পিএস) তারেক রহমান জুয়েল সরকারি পত্রের বরাত দিয়ে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বৈঠকে এমপি আলমগীর ফরিদ মাঠপর্যায়ের প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি লবণ ক্রয়, লবণের সুষম দাম নির্ধারণ এবং আমদানির চক্রান্ত রুখতে সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদিরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মহেশখালী ও কক্সবাজারের ৬ জন লবণ শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব আবদুল নাসের খান, অতিরিক্ত সচিব মো. নুর জামান এনডিসি, বিসিক চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ টিটু এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) ফখরুদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া কক্সবাজারের প্রান্তিক চাষি ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করেন সাংবাদিক মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুস শুক্কুর সিআইপি, কক্সবাজার জেলা লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী এবং মহেশখালী উপজেলা লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম।
কক্সবাজারের প্রান্তিক লবণচাষি ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সচিবালয়ের এই শীর্ষ বৈঠকের ফলে অচিরেই মিল মালিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে, আমদানির চক্রান্ত নস্যাৎ হবে এবং দেশীয় লবণ শিল্পে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।