কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নয়ন দাশের (৩৫) শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাহ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে নয়ন দাশের স্ত্রী অঞ্জনা দাশ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা সংসদ সদস্যের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাঁদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে নিহত নয়নের স্ত্রী অঞ্জনা দাশ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, নয়ন দাশ অত্যন্ত সাধারণ ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, কারো সাথে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না। গত ১৯ এপ্রিল রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে অঞ্জনা দাশ এখন চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অঞ্জনা দাশের আর্তনাদ ও আকুতি গভীর মনোযোগ সহকারে শোনেন জননেতা লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, নয়ন দাশের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং খুনিদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, অপরাধী যে-ই হোক বা যে দলেরই হোক, এই জঘন্য অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
এ সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে এমপি কাজল আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য ভূস্বর্গ। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সবসময় এই সামাজিক সৌহার্দ্য বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। কোনো ধর্মকেই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই, কারণ এটি সামাজিক শান্তি ও জাতীয় সংহতিকে বিঘ্নিত করে। এ ধরণের অপতৎপরতা দেশ ও জাতির জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না। পরবর্তীতে তিনি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং ঘটনার মূল ক্লু উদঘাটন করে দ্রুত চার্জশিট প্রদানের নির্দেশনা দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল রাত প্রায় ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন নয়ন দাশ। নিখোঁজের তিনদিন পর স্থানীয় একটি মন্দির সংলগ্ন পূর্ব পাশের পাহাড়ি এলাকায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল শুধুমাত্র শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ সফরে ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসেন। তিনি আজ শনিবার পুনরায় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর এই ঝটিকা সফর ও মানবিক অবস্থান নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে বিচারের আশা জাগিয়েছে।