ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় কেবল মশকনিধন বা পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ওপর নির্ভর না করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে শহরবাসীকে সরাসরি ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন কক্সবাজার -৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর মত জাতীয় সংকট সম্মিলিত উদ্যেগে প্রতিরোধ করতে হবে। এটি শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক সমস্যা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এমপি কাজল।
বুধবার ( ১৬ সেপ্টেম্বর ) বিকেল ৩টায় পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে হোটেল মোটেল জোনে 'ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান' এর কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলছেন।
তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য সবার আগে সচেতন বৃদ্ধি করতে হবে। নিজের উঠান, বাড়ির চারপাশ পরিস্কার রাখতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় পৌরসভার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
পৌরসভার প্রশাসক শামীম আল ইমরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্টেকহোল্ডারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
সুগন্ধা ড্রেনে জমে থাকা ময়লা সঠিক সময়ে পরিস্কার করা, পাহাড় কাটা বন্ধ করা, সৈকতের রাস্তা সংস্কার, নির্দিষ্ট স্থানে পৌরসভার ডাস্টবিন স্থাপন, স্টেকহোল্ডারদের সাথে পৌরসভার সমন্বয়সহ নানান বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া নিয়েও জোরালো আলোচনা হয়।
সভায় ড্রেন পরিষ্কার রাখার জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রাংশ বা যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক শামীম আল ইমরান। তিনি বলেন, এত বড় একটা পৌরসভার জন্য মাত্র একটা স্কেবেটর আছে। এটা দিয়ে সবকিছু করা সম্ভব নয়; এছাড়া আধুনিক সাকার ট্রাক ও আরও যন্ত্রাংশের সংকট আছে। এরপরেও পৌরসভা কতৃপক্ষ নিয়মিত ডাস্টবিন ও নালা-নর্দমা পরিস্কার রাখতে কাজ করছেন। তার এই বক্তব্যে পর পরেই এমপি লুৎফুর রহমান কাজল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে একটি ফাইল দিতে বলেন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর ডিও লেটার পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
সভায় পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদনান চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা, সহকারী প্রকৌশলী রোমেল বড়ুয়া, টুয়াক, কিটকট মালিক সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, হোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।