মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে জয়ের দাবি করেছে জান্তা-সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, ইউএসডিপি। যদিও এই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু মানতে নারাজ সমালোচকরা।
বেসামরিক নাগরিক ও বিদ্রোহী দমনে প্যারামোটর ও জাইরোকপ্টার ব্যবহার করে আকাশপথে হামলা চালাচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটসের প্রতিবেদন বলছে, কম খরচে সহজলভ্য এসব উড়োজাহাজ নিচ দিয়ে উড়তে পারে বলে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত করা সহজ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে প্রথম প্যারামোটর হামলার তথ্য পাওয়া যায় এবং ২০২৫ সালের মার্চে প্রথম জাইরোকপ্টার হামলা নথিভুক্ত করা হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে গেল বছর অক্টোবরে সাগাইং অঞ্চলে। সেখানে নির্বাচনবিরোধী এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে প্যারামোটর থেকে ফেলা মর্টার শেলে অন্তত ২৪ জন প্রাণ হারান। একই এলাকায় একটি হাসপাতালে জাইরোকপ্টার হামলায় প্রধান চিকিৎসকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৩৫০টি প্যারামোটর ও জাইরোকপ্টার হামলা হয়েছে। এর বড় অংশই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে।
সাগাইং, ম্যাগওয়ে, মান্দালয়, আয়েওয়ার্দ্দি ও বাগো অঞ্চল এসব হামলার প্রধান কেন্দ্র। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৭শ'র বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এএপিপি।
এর মধ্যেই, ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে জয় দাবি করেছে মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, ইউএসডিপি। রাজধানী নেপিদো ও মান্দালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় তিন ধাপে ভোট হয়।
দলটি জানায়, শেষ ধাপেই নিম্নকক্ষে ৬১টির মধ্যে ৫৭টি আসনে তারা জয় পেয়েছে। ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ৬৭টিতে ভোটই হয়নি। এগুলোর বেশিরভাগই বিরোধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা।
যদিও নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু মানতে নারাজ সমালোচকরা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ আন্তর্জাতিক মহলকে ফলাফল প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। জবাবে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং বলেছেন, দেশের ভেতরের ভোটই চূড়ান্ত। বিদেশি স্বীকৃতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন।