কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযানে চার লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ও তিন কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইসসহ মিয়ানমারের এক নাগরিক আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত নাফ নদীর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
আটক শাহ আলম (৫০) মিয়ানমারের রাখাইন রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার বাসিন্দা।
বিজিবির উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, রোববার রাত ১টার দিকে গোপন খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীতে অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে মিয়ানমার দিক থেকে বস্তা মাথায় নিয়ে সন্দেহজনক তিন ব্যক্তিকে আসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা থামার জন্য নির্দেশ দেন। এতে বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা চালায়। এসময় বিজিবির সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে তারা তিনটি বস্তা ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে তিনটি বস্তা পাওয়া যায়। এরপর বস্তাগুলো খুলে পাওয়া যায় চার লাখ ইয়াবা।
এদিকে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে টেকনাফের নাফ নদীর সাবরাং সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিন কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইসসহ মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করা হয়েছে বলে জানান বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান।
এ বিষয়ে লে. কর্নেল হানিফুর রহমান বলেন, রোববার মধ্যরাতে টেকনাফে সাবরাং এলাকায় বিজিবির সদস্যরা প্রযুক্তির সহায়তায় নাফ নদীর জলসীমার শূণ্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমার দিকে সন্দেহজনক একটি নৌকা প্রবেশ করতে দেখেন। এরপর থেকে বিজিবির সদস্যরা নৌকাটির ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায়ে সকাল ৭টার দিকে নৌকাটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে বিজিবির সদস্যরা থামার জন্য নির্দেশ দেন। এতে বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা তিন লোক নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমার অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। এ সময় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
পরে নৌকাটি তল্লাশি চালিয়ে কুঠুরিতে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ক্রিস্টাল মেথ বা আইস পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে সোমবার ভোররাতে টেকনাফে হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ নদীর লেদা এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান, লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ভোররাতে নাফ নদীর লেদা এলাকায় মাদকের বড় একটি চালান পাচারের খবরে বিজিবির একটি দল অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে একটি নৌকায় সন্দেহজনক তিন ব্যক্তিকে আসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা থামার জন্য নির্দেশ দেন। এতে বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে লোকগুলো কেওড়া বাগানে নৌকাটি ফেলে রেখে নদী সাঁতরে মিয়ানমার দিকে পালিয়ে যায়।
পরে নৌকাটি তল্লাশি চালিয়ে মাছের ঝুড়িতে রাখা ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান. লে. কর্নেল হানিফুর রহমান।
বিজিবির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পৃথক অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য, জব্দকৃত আলামত এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।