কক্সবাজারের নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার প্রশাসনিক কাঠামো বিনির্মাণ ও জনসেবা নিশ্চিত করতে প্রথম প্রশাসক হিসেবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পেকুয়া পৌরসভার দাপ্তরিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে গতিশীল হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল।
গত ২৪ মে স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা থেকে উপসচিব আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে পেকুয়া পৌরসভার প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইউএনও পেকুয়াকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। একটি নতুন পৌরসভায় সুশৃঙ্খল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসেবার মান নিশ্চিত করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
পৌরসভার প্রথম প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর ইউএনও রফিকুল ইসলাম তাঁর প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান, পৌরসভাটি নতুন হওয়ায় শুরুতে কিছু আইনি ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা প্রয়োজন। আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হবে পৌরসভার সঠিক সীমানা নির্ধারণ এবং নিয়ম অনুযায়ী ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা। এসব প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ার পর সরকারি গেজেট অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, পৌরসভার জন্য একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত কার্যালয় নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো প্রস্তাব এবং নাগরিক সেবা প্রদানের প্রাথমিক রোডম্যাপ তৈরির কাজও আমরা দ্রুত শুরু করব।
পেকুয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। এলাকাবাসীর মতে, সরাসরি প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মাধ্যমে পৌরসভার কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। সরাসরি সরকারি তদারকিতে একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকে এই রূপান্তরের পেছনে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সরকারের এই পদক্ষেপকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে পেকুয়া পৌরসভা এখন একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করবে। সীমানা নির্ধারণ ও প্রশাসনিক বিন্যাস শেষ হলে এবং পূর্ণাঙ্গ পৌর প্রশাসন কার্যকর হলে পেকুয়াবাসী আধুনিক নাগরিক সুবিধা, পরিকল্পিত অবকাঠামো এবং উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
প্রশাসনিক ও আইনগত সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে ধাপে ধাপে পেকুয়া একটি আধুনিক ও জনবান্ধব পৌরসভা হিসেবে পূর্ণতা পাবে- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন উপকূলীয় এই জনপদের মানুষ।
প্রসঙ্গত পেকুয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগটি ছিল এলাকার সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই তিনি বিষয়টি নিয়মিতভাবে অনুসরণ ও তদারকি করেন। পৌরসভা গঠনের প্রশাসনিক ও নীতিগত অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে একাধিক ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) লেটার প্রেরণ করেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণ, মানচিত্র প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে নীতিগত অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পেকুয়া পৌরসভা গঠনের গেজেট প্রকাশ ও পৃথক অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে নতুন পৌরসভার আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক যোগাযোগ, প্রশাসনিক অনুসরণ এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সক্রিয় সমন্বয়ের ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পেকুয়া পৌরসভা আজ বাস্তবে রূপ পেয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার পথে এগিয়ে গেছে।