নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপী পর্যটন মেলা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ) বিকেল ৩টায় বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার -৩ আসনের সংসদ সদস্য লুতফুর রহমান কাজল। এর আগে লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়।
উদ্বোধনের পরে লাবনী সৈকতে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে জেলা প্রশাসক মো: আ : মান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি শামীম আরা স্বপ্না। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, 'কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিকমানের গড়ে তোলতে সরকার একটি শক্ত কমিটি গঠন করেছেন। কক্সবাজারকে হাব হিসেবে গড়ে তোলায় হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য।'
তিনি বলেন, 'কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করতে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী আসবেন। বিশেষায়িত ব্লো-ইকোনমী বিশ্ববিদ্যালয়, পৌরসভাকে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন করাসহ সরকারের নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আগামী দিনের স্মার্ট নগরী হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে মাদক'কে চিরতরে বিদায় নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নিজ নিজ এলাকায় কমিটি গঠন করুন, মাদকের বিরুদ্ধে ডাক দিন, যেখানে মাদকের কারবার দেখবেন, সেখানে একসাথে প্রতিবাদ করবেন। সামাজিকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। সরকার একার পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়, আমাদের সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। আমরা কক্সবাজারকে একটা নিরাপদ ও পর্যটক বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।'
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শামীম আরা স্বপ্না বলেছেন, 'সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কক্সবাজারের উন্নয়নের জোয়ার শুরু হয়েছে। সরকারের উন্নয়নের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার হবে একটি আধুনিক মানসম্মত পর্যটন নগরী।'
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: আ : মান্নান বলেন, 'সাগরের গর্জন, সৈকতের হাওয়া আর সংস্কৃতির উৎসব, এই তিনের মিলনে সেজে উঠছে ইতিমধ্যে কক্সবাজার। তিনি বলেন, এই মেলার মধ্যে দিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করা এবং দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া।'
এদিকে মেলা উপলক্ষে হোটেল মোটেলে চলছে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, বাইক, স্পিডবোটেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে মেলা উপভোগ করতে আগাম হোটেল রুম বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া সরকারি ছুটি থাকায় ইতিমধ্যে পর্যটকে ভরে গেছে কক্সবাজার। সবমিলিয়ে এবার কক্সবাজারে পাঁচ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা করছেন হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম দিকদার। তিনি বলেন, তিন দিনব্যাপী মেলা উপলক্ষে হোটেলগুলোতে ছাড় চলছে। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে।
এবারের মেলায় ৮০ টির মত স্টল অংশ নিয়েছে। এসব স্টলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে থাকবে আচার, শুঁটকি ও পিঠাসহ হরেক রকমের আয়োজন।
এ ছাড়াও মেলায় প্রতিদিন থাকছে চোখধাঁধানো ফায়ার শো ও ব্যান্ড শো, সঙ্গে লোকজ সংগীত, সুফি ও কাওয়ালি, ফোক এবং ডুয়েট গানের মনকাড়া আসর। এছাড়াও থাকছে, প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কৌতুক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সৈকত তীরের বিশাল মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন স্থানীয় শিল্পীরা। সৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই আয়োজন চলবে।