বার্তা পরিবেশক
মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী সৈকত এলাকায় ডিবি পরিচয়ে পর্যটকের মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে একজনকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়রা। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
গত বুধবার ( ২৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ইনানী এলাকার সী পার্ল হোটেলের পাশে ঘটে এই ঘটনা।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে ইনানী এলাকার সী পার্ল হোটেলের পাশে মা নূর মহল রেস্তোরাঁয় নাস্তা করছিলেন, মোহাম্মদ নাইমুর রহমান নামে এক পর্যটক। তার সাথে সাব্বির, আলভীসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য ছিল। এ সময় মাস্ক পরিহিত, ব্লাক জ্যাকেট পরে ডিবি পরিচয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মোবাইল জব্দ ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। ভিকটিম চিৎকারে করলে একজন পালিয়ে গেলেও আবিদ আলমকে ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে আবিদকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে রাত ১০ টার দিকে আবিদের বড় ভাই মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় আবিদকে।
এ ঘটনায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার নাম আবিদ আলম (২৩)। তিনি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার চামত্য নিয়ামতি এলাকার ফারুক আলম ও শামীমা সুলতানার ছেলে। পালিয়ে যাওয়া ব্যাক্তির নাম সাকিব।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জানায়, গত বুধবার মেরিন ড্রাইভ সড়কের সী পার্ল হোটেলের পাশে মা নূর মহল রেস্তোরাঁয় ডিবি পরিচয়ে এক জনকে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুই যুবক। স্থানীয়রা আবিদ আলম নামে একজন আটক করে এবং অন্যজন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে এএসআই দিদার ও এএসআই দূর্জয় ঘটনাস্থলে গিয়ে আবিদকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে খেলনা পিস্তল ও ওয়াকি টকি জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা ভিকটিম নাইমুর রহমান জানান, হোটেল থেকে বের হয়ে মা নূর মহল হোটেলে নাস্তা করতে যায়। আমার সাথে সাব্বির, আলভীসহ আরও কয়েকজন ছিল। হঠাৎ করে কালো জ্যাকেট ও মাস্ক পরিহিত দুই যুবক মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমার সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পিস্তল বের করে হুমকি দেয়। ওই ব্যাক্তির পিস্তল সন্দেহ হলে আমি ও আমার সাথে থাকা বন্ধুরা চিৎকার করে। আমাদের আওয়াজ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে৷ একজন পালিয়ে গেলেও আবিদ নামের একজনকে ধরে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকিসহ ওই যুবক আটক করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ডিউটি অফিসারের সাথে বার বার যোগাযোগ করলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেয়নি। উল্টো আমার স্ত্রীকে নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করেন। এত বড় একটি অপরাধ হয়ে গেলো অথচ পুলিশ মামলা নেয়নি৷ এ কারণে আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
এ বিষয়ে কথা বলতে, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।