কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার এক কৃষক লীগ নেতাসহ ১৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ১ জন চোর ও ছিনতাইকারী, ১ জন সন্ত্রাস বিরোধী আইনে, ৭ জন মাদকসেবী, ১ জন ধর্তব্য অপরাধে, ৩ জন পরোয়ানাভুক্ত এবং ১ জন নিয়মিত মামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেফতার হয়েছেন জেলা কৃষক লীগের নেতা ও কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা গাড়ীর মাঠ এলাকার মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে মোঃ সেলিম রেজা (৫৩)। তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন ও পেনাল কোডের একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে গ্রেফতারকৃত চোর ও ছিনতাইকারী হলেন পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লাইট হাউস পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩১)। তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, অস্ত্র আইন ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ সদর থানায় অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে।
একই অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন চকরিয়া উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিত্তাখালীর মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ (২৪), চকরিয়ার চরন্ডি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ হাসিম (৩১), টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জিম্মংখালীর বশীরের ছেলে আব্দুল আজিজ (২৬), কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ খলিল (২৫), পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের লাইট হাউসের নুর মোহাম্মদ (৩৫), শেরপুর পৌরসভার বর্তমানে কক্সবাজার সদর থানাধীন দক্ষিণ হাজিপাড়ার মোঃ নজরুল ইসলাম (৪০) এবং ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন জেলগেইট রহমতপুরের মোঃ জাহেদ হোসেন (৩৫)।
এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় পিএমখালী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার সুলতান রিজিয়া মনি (৪০) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) ৩ আসামি হলেন ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া নাপিতা পাড়ার সাগর শর্মা (২২), চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের খামার পাড়ার মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন (৪৩) এবং খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইলের মোঃ মনির আহমদ (৩২)।
নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আদর্শগ্রামের মৃত হারুনুর রশিদের ছেলে নুরুল আমিনকে (৪৮)।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।