জিশু বড়ুয়া, সহকারী পরিচালক, ইপসা
মানবপাচার প্রতিরোধ ও অভিবাসন সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে প্রধানত তিনটি জায়গায় কাজ করা জরুরি- গন্তব্য দেশ, রাষ্ট্রীয় পর্যায় এবং পারিবারিক পর্যায়।
আইনি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মানবপাচার ও মানব চোরাচালান প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনেও কিছু ফাঁকফোকড় ও সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক প্রমাণের অজুহাতে দায়মুক্তির মতো সুযোগ তৈরি হয়ে থাকে, যা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে ব্যাহত করে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের ফাঁকফোকড় বন্ধ করে অপরাধীদের পূর্ণ দায়বদ্ধতার আওতায় আনা আবশ্যক।
কক্সবাজারের মতো অভিবাসনপ্রবণ এলাকায় প্রবাসীদের পারিবারিক সুরক্ষাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবাস থেকে অর্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনেকেই হুন্ডির ওপর নির্ভর হয়ে পড়েন। ফলে পরবর্তীতে প্রবাসীরা দেশে ফিরে তাদের অর্জিত সম্পদ বা ব্যাংকিং স্টেটমেন্ট না থাকায় পারিবারিক ও আত্মীয়স্বজনের চরম প্রতারণার শিকার হন। জমিজমা বা পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পরিবারের অভ্যন্তরীণ এই স্টেকহোল্ডারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এই সংকট নিরসনে হুন্ডি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকিং সেবাকে আরও শক্তিশালী, সহজ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। কারণ বেসরকারি অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হওয়ায় প্রবাসীরা বিকল্প পথে টাকা পাঠান, যা প্রকারান্তরে অর্থ পাচারের রূপ নেয়। ব্যাংকিং চ্যানেলকে নিরাপদ ও সুসংহত করা গেলে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সের সুরক্ষা মিলবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবন নিরাপদ হবে।