চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বানিয়াকুম ও মুহুরীপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে বালু তোলার বিপুল পরিমাণ পাইপ ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২ টার দিকে এই অভিযানে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ২টি স্যালু মেশিন জব্দ এবং আরও ২টি মেশিন ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কৈয়ারবিলের বানিয়াকুম ও মুহুরীপাড়া এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে ফসলি জমি ও নদী তীরবর্তী গ্রামীণ রাস্তাঘাট তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে। স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে চকরিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে জড়িতরা পালিয়ে যায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শেষ হতেই মাতামুহুরী নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সরকারি ভাবে ইজারা না থাকা সত্বেও বালু চুরির সিন্ডিকেট গুলো নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেপরোয়া অবস্থা বিরাজ করছে সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল এবং পহরচাঁদা ইউনিয়নে। একই সাথে চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোও এখন বালুখেকোদের দখলে চলে গেছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এসব পয়েন্ট থেকে শত শত ডাম্পার ও ট্রাকে করে অবৈধ বালু পাচার করা হচ্ছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা চরগুলো ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে কেটে সাবাড় করছে এই চক্র। প্রকাশ্যে দিন-দুপুরে এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চললেও বাধা দিতে গেলে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা ও শারীরিক হামলার হুমকি দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে চকরিয়ার পরিবেশ ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট হুমকির মুখে পড়ছে। বালু দস্যুদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে। নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের এই অভিযান চকরিয়াজুড়ে অব্যাহত থাকবে।