প্রফেসর ড. এবিএম আবু নোমান, সাবেক ডিন ও বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
কাজের সন্ধানে অভিবাসী কর্মীদের বিদেশ যাত্রা, সেখানে কাটানো জীবন এবং পরবর্তীতে দেশে ফিরে আসার পুরো প্রক্রিয়ায় যে আচরণ ও সুরক্ষার বিষয়টি আসে- তা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখনো মারাত্মকভাবে উপেক্ষিত।
২০১৩ সালের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনটি বর্তমান সময়ের বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সুরক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ থাকলেও তা বেশ অস্পষ্ট ও দুর্বল। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'ইপসা' স্থানীয় পর্যায়ে 'গ্রিভেন্স ম্যানেজমেন্ট কমিটি' গঠন করে যেভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি ও ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধার করছে, সেটিকে একটি সফল মডেল হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই উদ্যোগকে জাতীয় আইনি কাঠামোতে যুক্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক ও বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দিচ্ছি।
নতুন করে ২০২৬ সালে সংশোধিত 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান' আইনে প্রথমবারের মতো 'অভিবাসী চোরাচালান'-কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এর কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে জটিলতা দেখা দিয়েছে অন্য জায়গায়- ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন এবং ২০২৬ সালের নতুন আইনের মধ্যে বেশ কিছু সাংঘর্ষিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক ধারা রয়েছে। একই অপরাধের জন্য দুটি ভিন্ন আইনে মামলা করার সুযোগ থাকায় আদালতে আইনি জটিলতা বা কার্যপ্রণালীগত ভুল হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়া সহজ করতে এই দুটি আইনের মধ্যবর্তী অসংগতিগুলো দ্রুত দূর করা প্রয়োজন।
প্রবাসীরা তাঁদের রক্ত ও ঘামে আমাদের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে শুরু করে প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁদের সাথে এখনো যে অবহেলা ও দুর্ব্যবহার করা হয়, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেবল কাগজে-কলমে আইন বা সুসজ্জিত লাউঞ্জ তৈরি করে সমস্যার সমাধান হবে না; আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, বিএমইটি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়িয়ে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।