স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার শহর ও পেকুয়ায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার দুপুরের পর মিছিল সহকারে নেতাকর্মীরা দলে দলে বিএনপি কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসতে শুরু করে। এরপর সালাহউদ্দিন আহমদকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে স্লোগান দিতে থাকে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারপর দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত বিপুর নেতৃত্বে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
এদিকে সালাহউদ্দিন আহমদের নিজ এলাকা পেকুয়াতেও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। আর কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর নেতৃত্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নীত ও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে।
শহর যুবদলের যুগ্ম আহ্ববায়ক কানন বড়ুয়া বিশাল বলেন , কক্সবাজার জেলাবাসীর পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে কক্সবাজারের ভূমিপুত্র, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করায় আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাঁকে অভিনন্দন জানাই। দেশের নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান দমন, পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্র উপকূলে জলদস্যু দমনে তিনি কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এডভোকেট আব্দুল মন্নান বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কক্সবাজারের গর্ব, আমাদের মাটির সন্তান। তাঁর জীবন সংগ্রামের ইতিহাস আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। দীর্ঘ ১৪–১৫ বছর তিনি নিজেই ভারতে শরণার্থী হিসেবে কষ্টের জীবন কাটিয়েছেন। একজন মজলুম মানুষের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের দুঃখ–কষ্ট গভীরভাবে বুঝতে শিখিয়েছে। আমি একজন কক্সবাজারবাসী হিসেবে তাঁর এই অর্জনে গর্ব অনুভব করি এবং তাঁর সফলতা কামনা করি। বিশেষ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মতো জটিল ও মানবিক ইস্যুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এটাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। কারণ শরণার্থী জীবনের কষ্ট তিনি নিজে অনুভব করেছেন; তাই এই সংকট সমাধানে তিনি অন্যদের চেয়ে বেশি সহমর্মী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জেলা যুবদলের সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল বলেন, কক্সবাজারের ভূমিপুত্র ও এই অঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ সাহেবকে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে আনন্দিত ও গর্বিত। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রেক্ষাপটে তিনি তাঁর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা ফিরে পাবে এবং দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, পুরো জেলাবাসীর জন্য আজকে গৌরবের দিন, একজন যোগ্য মানুষকে মন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ পুরো দেশের সাথে সালাহউদ্দিন আহমদের যোগ্য নেতৃত্বে আরো সমৃদ্ধ হবে কক্সবাজার।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না বলেন, কক্সবাজারবাসীর প্রিয় নেতা সালাউদ্দিন আহমদ পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব¡ পাওয়ায় আমরা কক্সবাজারবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের জেলার একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতার হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য বড় অর্জন। আমরা তাঁর প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তাঁর নেতৃত্বে দেশ ও জনগণ আরও বেশি নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি আর বলেন, 'একইসঙ্গে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং সংসদের উপনেতা হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় আমরা গভীরভাবে আনন্দিত। এটি বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। বাংলাদেশের নতুন এই অগ্রযাত্রায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশ ও জনগণের কল্যাণে এই নতুন অধ্যায় সফল হোক-এই কামনা করি।'
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম, ১৯৯৬ সালের জুনে দ্বিতীয় এবং ২০০১ সালের অক্টোবরে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন হলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন সালাহউদ্দিন আহমদ।