এস.এম. তারেক
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের ঈদগাঁও অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে অসাধু ও বিপথগামী এক শ্রেণির কিশোর-যুবকদের অপতৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, লাইনের নিরাপত্তা রক্ষাকারী পাথর চুরির চেষ্টা এবং পাথর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলার মতো বিপজ্জনক ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই। এতে করে একদিকে যেমন ট্রেনযাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সম্পদ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ রেল স্টেশন ও তার আশপাশ এলাকা, উত্তরাংশের বোয়ালখালী ও নাপিতখালী এবং দক্ষিণ পাশের রাবার ড্যাম, জালালাবাদ ইউনিয়নের পালাকাটা ও ঈদগাঁওর মাইজপাড়া সহ একাধিক পয়েন্টে প্রতিনিয়ত এসব অপকর্ম চলছে। এসব স্পর্শকাতর স্পটে একাধিকবার চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারার মতো দূরভিসন্ধিমূলক ঘটনা ঘটেছে। শুধু তা-ই নয়, রেললাইনের ভারসাম্য ও স্থায়িত্ব রক্ষায় ব্যবহৃত দু'পাশের গুরুত্বপূর্ণ পাথরগুলো এলোমেলো করে ফেলা হচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে কিছু উদীয়মান অসচেতন কিশোর ও তরুণ।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ৪ অক্টোবর (রবিবার) সকালে কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঈদগাঁওর ইসলামাবাদ রেল স্টেশন ও এর তৎসংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সাথে সচেতনতামূলক মতবিনিময় করেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন এবং ট্রেনের নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটানো অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ জাতীয় অপকর্মের সাথে জড়িত কাউকেই কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিক—টুকু, শহিদুল ও মোস্তফা সহ উপস্থিত এলাকার বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো অবস্থাতেই দেশের ভাবমূর্তি ও রেল সম্পদ নিয়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা যায় না। এসব দুষ্কৃতকারী চক্রকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সাথে রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় এলাকাবাসী প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের দৃঢ় আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।