কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় একই দিনে দুই দফা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টা ও দুপুর আড়াইটার দিকে অস্ত্রধারী মুখোশধারীদের কবলে পড়েন যাত্রী, একটি কোম্পানির প্রতিনিধি ও এনজিওকর্মীরা। তাঁদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল, মুঠোফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের কয়েকজনকে মারধর করে পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড়ে অভিযান চালান। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো শনাক্ত বা আটক করা যায়নি। পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে ডাকাতেরা তাঁদের গতিরোধ করে। এ সময় যাত্রীদের মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মারধর করা হয়। একই স্থানে দুপুরে আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এবার একাধিক অটোরিকশার যাত্রী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা ডাকাতদের কবলে পড়েন।
পাহাড়ে নিয়ে আটকে রেখে মারধর
ডাকাতির শিকার সুপারস্টার কোম্পানির প্রতিনিধি পিয়ুল বলেন, এক সহকর্মীকে নিয়ে ঈদগড়-বাইশারী এলাকায় কাজ শেষে ফেরার পথে হিমছড়ি ঢালায় মোটরসাইকেল ঘোরানোর সময় পাহাড়ের ওপর থেকে পাঁচ থেকে সাতজন অস্ত্রধারী তাঁদের ঘিরে ধরেন। পরে তাঁদের মোটরসাইকেল, মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পিয়ুল বলেন, ডাকাতেরা তাঁদের পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা আটকে রাখে এবং মারধর করে। পরে ছেড়ে দিলে কাদা ও দুর্গম পথ পেরিয়ে তাঁরা মূল সড়কে ফিরে আসেন। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
পিয়ুল আরও বলেন, দিনের আলোয় এমন ঘটনা ঘটবে, তা তাঁরা কল্পনাও করেননি। তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি কোম্পানির। এ ছাড়া তাঁর কাছে কোম্পানির সংগ্রহ করা টাকা, ব্যক্তিগত নগদ অর্থ, মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিল। ডাকাতেরা সবকিছু নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।
ডাকাতির শিকার এনজিওকর্মী আব্দুল হাকিম বলেন, তাঁর কাছে এনজিওর ১০ লাখ টাকার একটি আরটিজিএস-সংক্রান্ত কাগজপত্র ছিল। ডাকাতেরা তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করে, বিশেষ করে জোরে লাথি মারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পাহাড়ে পুলিশের অভিযান
ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড়ে তল্লাশি চালান। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আমিন বলেন, ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাঁরা কয়েকজন পাহাড়ের ভেতরে অভিযান শুরু করেন। বিকেল তিনটার কিছু আগে শুরু হওয়া অভিযান চলে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত। এ সময় পাহাড়ের ভেতরে একটি ওড়না ও বোরকাসহ চারটি পোশাকসামগ্রী পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা টিপু সুলতান বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে তিনি ঈদগাঁও পুলিশ ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে যান। তাঁর মতে, ডাকাতির মতো অপরাধ প্রতিরোধে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংসহ প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা
ঈদগাঁও থানার পরিদর্শক এটিএম সিফাতুল মাজদার বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঘটনাস্থলে যান। তবে সেখানে পৌঁছে কোনো গাড়ি পাননি। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, ডাকাতেরা পাহাড়ের দিকে চলে গেছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি। ডাকাতির ঘটনায় কতজন জড়িত ছিল এবং কী পরিমাণ টাকা বা মালামাল লুট হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
দিনের আলোয় গুরুত্বপূর্ণ এই পাহাড়ি সড়কে পরপর দুই দফা ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।