নির্বাসনের নয় বছর হতে চললেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পে আশ্রিত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জীবনে নেই স্বস্তি, নেই ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো বাংলাদেশে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। আর রোহিঙ্গাদের একটাই দাবি-নিজ ভিটেমাটিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন।
সত্তর বছরের জীবনে তিনবার প্রাণ বাঁচাতে নিজ দেশ মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে আহমেদ হোসেনকে। দু’বার ফিরে যেতে পারলেও সর্বশেষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় নয় বছর, তবু আর ফেরা হয়নি জন্মভূমিতে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার একটাই আকুতি-মৃত্যুর আগে যেন নিজের দেশে ফিরতে পারেন। একই বেদনা তার স্ত্রীর কণ্ঠেও। ১২ সদস্যের পরিবার নিয়ে ক্যাম্পের অনিশ্চিত জীবন তাদের জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আজ তারা হয়ে পড়েছেন দেশহীন; ফিরতে চান নিজেদের ভিটেমাটি আর পরিচয়ের কাছে।
উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ৫, সি-১ ব্লকের বাসিন্দা আহমেদ হোসেন (৭০) বলেন, জীবনে তিনবার প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে। ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে কিছুদিন পর আবার নিজ দেশে ফিরতে পারলেও, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে আর ফেরা হয়নি। প্রায় নয় বছর ধরে ক্যাম্পে কাটছে তার জীবন। বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তার একটাই আকুতি-মৃত্যুর আগে যেন নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন।
আহমেদ হোসেনের স্ত্রী নুর বাহার (৫৫) বলেন, বড় পরিবার নিয়ে ক্যাম্পের জীবন দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। সন্তানরা বড় হলেও স্বাধীনভাবে চলাফেরা বা আয়-রোজগারের সুযোগ পাচ্ছে না। সীমিত খাদ্য সহায়তা নিয়ে সংসার চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এখনই নিজের দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সেই সুযোগ নেই। জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে আজ তারা হয়ে পড়েছেন দেশহীন মানুষ।
১৯৮২ সালে মিয়ানমার সরকার নতুন নাগরিকত্ব আইনে ১৩৫ টি জনগোষ্ঠীকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যেখানে বাদ দেয়া হয় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে। চূড়ান্তভাবে এই জনগোষ্ঠীকে করা হয় রাষ্ট্রহীন।
ইউএনএইচসিআর গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৪৫ লক্ষ মানুষ রাষ্ট্রহীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে ৪১ শতাংশই হলেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, যার সংখ্যা প্রায় ১৮ লক্ষ। মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসার পর বর্তমানে এই ১৮ লক্ষ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষই রোহিঙ্গাই বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রহীন মানুষ বসবাস করছেন, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। এখানে ১২ লক্ষ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বাস করছেন। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি একটি দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট হিসেবে চিহ্নিত। এর অর্থ হলো তারা কোনো নিশ্চিত সমাধান বা নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ ছাড়াই প্রায় ৯ বছর ধরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
মিয়ানমার এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির একটি বড় উৎস। এছাড়া বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত রাষ্ট্রহীন মানুষদের একটি বড় অংশই হলো রোহিঙ্গা, যারা মিয়ানমারের ভেতরেই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অথবা পাশের দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আছেন। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যখন শরণার্থীরা কোনো নিশ্চিত সমাধান ছাড়া ৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে নির্বাসিত থাকেন, তখন তাকে দীর্ঘস্থায়ী সংকট বলা হয়। বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জন শরণার্থীর মধ্যে প্রায় ৭ জনই এই পরিস্থিতির শিকার, যার একটি বড় উদাহরণ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা।
মিয়ানমারে সংঘাত ও সংকটের কারণে শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
রাষ্ট্রহীনতার অর্থ শুধু একটি দেশের নাগরিকত্ব না থাকা নয়। এর অর্থ শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা থেকেও বঞ্চিত থাকা। সেই বাস্তবতাই এখন ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের জীবনকে ঘিরে ফেলেছে। ক্যাম্পে এমন হাজারো শিশু ও কিশোর আছে, যারা মিয়ানমার কখনো দেখেনি। তাদের জন্ম কিংবা বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের এই আশ্রয়শিবিরেই।
উখিয়ার মধুরছড়া বর্ধিত ক্যাম্পের ৯ বছর বয়সী আনাছের স্বপ্ন বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু ক্যাম্পের সীমাবদ্ধ বাস্তবতা সেই স্বপ্নের পথকে কঠিন করে তুলেছে। সে বলে, তার মা-বাবার জন্ম মিয়ানমারে হলেও তার জন্ম বাংলাদেশে। তবু এখনো সে নিজের পরিচয়ের নিশ্চয়তা পায়নি, আর পরিবারের সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সুযোগও হবে কিনা জানি না।
উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-৩-এর ১৪ বছর বয়সী কিশোর সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাড়ে চার বছর বয়সে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে তার পরিবার। তখন থেকে জীবন কাটছে ক্যাম্পেই। সে জানায়, তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন-নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়া। কারণ ক্যাম্পে বসবাসের সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা বা স্বাভাবিক জীবনের কোনো সুযোগই সে পাচ্ছে না।
ক্যাম্প-৪-এর এ-৬ ব্লকের বাসিন্দা একরাম (৩০) বলেন, ক্যাম্পের জীবন চরম কষ্টের মধ্যে কাটছে। ঘরবাড়ি, থাকা-খাওয়া-সবকিছুতেই দুর্ভোগ বাড়ছে। এক মুহূর্তও ক্যাম্পে থাকতে চাই না, বরং নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। কারণ দিন দিন জনসংখ্যা বাড়ায় ক্যাম্পে বাসস্থান, খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী মো. সালাম বলেন, মিয়ানমারে থাকাকালে কৃষিকাজ করে স্বচ্ছলভাবে জীবন কাটাতেন। ধান চাষ, পানের বরজসহ নানা কাজে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং সুস্থও ছিলেন। কিন্তু ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই অসুস্থতা যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখানে সন্তানরা বড় হলেও স্বাধীনভাবে চলাফেরা বা কাজ করার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে কমে গেছে খাদ্য সহায়তাও। সব মিলিয়ে পরিবার নিয়ে ক্যাম্পের জীবন এখন তার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম।
ক্যাম্প-২ ইস্টের বাসিন্দা শফি আলম (৪৫) বলেন, ‘ক্যাম্পের জীবন কোনোভাবেই স্বস্তিদায়ক নয়। এখনই নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই।’
মিয়ানমারের চলমান সংঘাত নতুন করে বাড়িয়েছে অনিশ্চয়তা। সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতায় এখনো বাস্তুচ্যুত হচ্ছে হাজারো মানুষ। জাতিসংঘ বলছে, ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জীবন মানবেতর, আর মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান সময় সংবাদকে বলেন, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি এখন প্রায় এক দশক পূর্ণ করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে, অনেকে এরও আগে থেকেই উদ্বাস্তু জীবন কাটাচ্ছে।
তিনি জানান, শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বললে সবাই একটাই কথা বলে-তারা নিজেদের ঘরে, মিয়ানমারে ফিরতে চায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত নয়; সেখানে এখনো সহিংসতা, নির্যাতন ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার কথা পাওয়া যায়।
শারি নিজমান আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে আসা মানুষদের গল্পও ২০১৭ সালের রোহিঙ্গাদের অভিজ্ঞতারই পুনরাবৃত্তি। অন্যদিকে মিয়ানমারের পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক ও মানবিক সহায়তা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে শরণার্থীদের মধ্যে আশা দ্রুত ফিকে হয়ে আসছে। অনেকেই এমন অবস্থায় পড়ছেন, যেখানে তারা না পারছেন ফিরে যেতে, না পারছেন এখানেই স্থিতিশীল জীবন গড়ে তুলতে। এই অনিশ্চয়তা থেকেই কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যার অনেক যাত্রাই দুঃখজনকভাবে প্রাণহানিতে শেষ হয়।
তিনি বলেন, এই দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গারা এখনো মূলত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি করা। ইউএনএইচসিআরসহ মানবিক সংস্থাগুলো এ লক্ষ্যে কাজ করলেও সীমিত সম্পদের কারণে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
শারি নিজমান আরও জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের টিকে থাকা ও ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টেকসই ও ধারাবাহিক সহায়তা। একসঙ্গে কাজ করলেই তাদের মধ্যে আশা বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং তারা ভবিষ্যতে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ পেলে নিজেদের সম্প্রদায় পুনর্গঠন করতে পারবে।
এদিকে প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা। অর্থসংকটে খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বাড়ছে চাপ। একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম আশ্রয়শিবিরের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি স্থানীয় জনজীবন, পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্যও হয়ে উঠছে বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বারবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিন্তু প্রতিবারই তা ব্যর্থ হয়েছে। ফেরত যাননি একজন রোহিঙ্গাও।
এব্যাপারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন ভয়াবহ অর্থসংকটের মধ্য দিয়ে চলছে। ২০১৭ সালে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও বর্তমানে নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত নতুন আগমন ও ক্যাম্পে জন্মহার বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তবে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়ন সেই অনুপাতে না বাড়ায় ন্যূনতম মানবিক সেবা নিশ্চিত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, গত কয়েক বছরে দেড় লক্ষাধিক নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে এবং প্রতি বছর আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে ক্যাম্পে। তবুও এখনো একজন শরণার্থীকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, কারণ সেখানে রাখাইন অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতা প্রত্যাবাসনের অনুকূল নয়।
মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো প্রত্যাবাসন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মিয়ানমার সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হবে।
তিনি আরও জানান, ২০১৭-১৮ সালে প্রায় ৮ লাখ পরিবারের তথ্য মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও আংশিক যাচাইয়ের পর সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্থবির রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন শুরু হলে এই তথ্য হালনাগাদ করে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে রোহিঙ্গাদের একটাই দাবি-নিজ ভিটেমাটিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন।
ক্যাম্প-১ লম্বাশিয়ার বাসিন্দা রোহিঙ্গা মো. রশিদ (৫০) বলেন, ‘বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে আশ্রয় নিতে আসেনি, বরং নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চাই। ক্যাম্পের জীবন আমাদের জন্য কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।’
উখিয়ার ক্যাম্প-২ টিভি টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা রোহিঙ্গা ছলিম উদ্দিন (৪৮) বলেন, যদি নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে মিয়ানমারে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়, তবে আমরা এখনই ফিরে যেতে প্রস্তুত।
আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবাইর সময় সংবাদকে বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে তাদের দাবি-মিয়ানমারের আরাকানে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করা হোক, যাতে তারা নিজেদের দেশে নিরাপদে ফিরে যেতে পারে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা বিদেশি নাগরিক নন, তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমিতেই ফিরতে চান। তাই আলাদা করে প্রত্যাবাসন বা যাচাই-বাছাই নয়, বরং নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগই তাদের প্রধান চাওয়া। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
দীর্ঘ প্রায় নয় বছর হতে চললেও রোহিঙ্গাদের জীবনে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। তারা আশ্রয় পেলেও পাননি নাগরিকত্ব বা নিজ দেশে ফেরার নিশ্চয়তা। নিরাপত্তার মধ্যে জীবন কাটলেও মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আশা এখনও অধরা। এই দীর্ঘ নির্বাসনের শেষ কোথায়-সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মনে।