মহাসড়কে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজার অংশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে গরুর হাট। এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক ও যাত্রীরা। মহাসড়ক থেকে হাট সরাতে সচেতনতা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছে র্যাব। একই সঙ্গে টহল ও নজরদারি বাড়িয়ে হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর কলঘর বাজার এলাকায় দেখা যায়- ঈদুল আজহা সামনে রেখে মহাসড়কের দুই পাশজুড়ে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। কোথাও ট্রাকভর্তি গরু নামানো হচ্ছে, আবার কোথাও সড়কের পাশেই বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে শত শত পশু। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুধু গরু আর মানুষের ভিড়।
আর এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যস্ত এই মহাসড়ক। একটু এগোলেই আবার থেমে যাচ্ছে যানবাহন। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। যে সড়ক পার হতে সময় লাগার কথা পাঁচ মিনিট, সেখানে লাগছে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
শুধু রামুর কলঘর নয়, খরুলিয়া, ঈদগাঁওসহ মহাসড়কের একাধিক স্থানে গড়ে ওঠেছে পশুর হাট। ফলে ঈদকে সামনে রেখে বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ভোগান্তি। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
হানিফ পরিবহনের যাত্রী মোবারক আলী বলেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাজার বসানোর কারণে যানজট লেগেই থাকে। এতে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে এক থেকে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব, সেখানে অনেক সময় তিন ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে, যেন ভোগান্তির শেষ নেই।
একই পরিবহনের আরেক যাত্রী ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “সরকারের বার বার নির্দেশনা দিয়েছে; যেন কোনোভাবেই মহাসড়কে কোরবানির পশুর হাট না বসে। কিন্তু ঠিকই পশুর হাট বসেছে আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের।”
ওষুধ কোম্পানির গাড়িচালক হেফাজতুর রহমান বলেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে বাজার বসানোর কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
শ্যামলী পরিবহনের চালক সৈয়দ আলম বলেন, মহাসড়কে গরুর হাট বসানো ও পশু চলাচলের কারণে পরিবহন চালাতে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। যানজটের কারণে যাত্রীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি সড়কে গরু উঠে আসায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং পশুর হাটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র্যাব-১৫। সোমবার (২৫ মে) কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজার এলাকায় পশুর হাট পরিদর্শন করেন কক্সবাজারস্থ র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজারস্থ র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ঈদের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কসংলগ্ন পশুর হাট বসলেও এটি আদর্শ পরিস্থিতি নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ ও ইজারা দেওয়ার বিষয়টি মূলত স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে হয়ে থাকে। তবে হাট যেখানেই বসুক না কেন, র্যাব চেষ্টা করবে যাতে বাজারের সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঠিক থাকে। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অধিকাংশ পশুর হাটই মহাসড়ককেন্দ্রিক হওয়ায় যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মহাসড়ক থেকে দূরে বড় খোলা মাঠ বা নির্ধারিত স্থানে পশুর হাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
র্যাব-১৫ অধিনায়ক জানান, পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দৃশ্যমান টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা বিভিন্ন হাটে অবস্থান নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যেকোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা অবনতির ঘটনা প্রতিরোধে র্যাব তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বড় পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের সহায়তায় র্যাবের মোবাইল কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট থেকে জাল টাকা শনাক্ত, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পারির তৎপরতা প্রতিরোধ, পকেটমার ও হাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি দমনে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
লেঃ কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে হাসিল আদায়ে অনিয়ম, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের হয়রানি, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে র্যাবের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করবে। হাটকেন্দ্রিক যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ বছর কক্সবাজারে কোরবানির পশুর হাট বসেছে ৯৮টি। এর মধ্যে স্থায়ী হাট ৪৮টি এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে বসেছে আরও ৫০টি।