লন্ডনে ১৭ বছর নির্বাসনে কাটিয়ে দেশে ফেরার দুই মাসের মধ্যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, ঠিক যেমন একসময় তার বাবা-মা দিয়েছিলেন।
তার বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি, যার হাত ধরে ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। আর মা খালেদা জিয়া তিনবারে ১০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। চার দশকের বেশি সময় তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিএনপি যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যাবে, তারেক রহমান যে প্রধানমন্ত্রী হবেন, অনেকের কাছে তা অনুমিতই ছিল। তবে ২০২৪ সালের অগাস্টের আগে অনেকের কাছেই বিষয়টি ছিল অনেক দূরবর্তী ভাবনা।
বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল তারেক রহমানকে। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়েন।
ওই বছর নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে হেরে যায় বিএনপি। পরের দেড় দশক ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃসময় পার করেছে তারেকের দল।
নেতাকর্মীরা রাস্তার আন্দোলনে পুলিশের মার খেয়েছে, অনেকে ‘গুম’ হয়েছে; পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি অফিসে তালা দিয়েছে; এমনকি খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে জেলে যেতে হয়েছে। লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে তারেক রহমানকে দূরে বসেই সব দেখতে হয়েছে।
সে কারণে তরেক রহমানের জন্য গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচন বিরাট এক রূপান্তরের মাহেন্দ্রক্ষণ।
গতবছর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে নেতাকর্মী-সমর্থকদের কাছে বিরোচিত সংবর্ধন পান তারেক। তার পাঁচ দিনের মাথায় মাকে হারান। এ বছর ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পান দলের নেতৃত্ব। এরপর ভোটের মাঠে দলকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যান চূড়ান্ত লক্ষ্যে।
দেশে ফিরে লাখো জনতার সংবর্ধনা সমাবেশে তারেক মার্কিন নাগরিক অধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি “আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম”–এর আদলে বলেছিলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান।” সেটাই ছিল তার ভোটের প্রচারের মূল সুর। দেশের একটি বড় অংশ ঘুরে বেরিয়ে সেই সুরেই তিনি দলের তৃণমূলকে সংগঠিত করেছেন।
সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগহীন ভোটের মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা সাবেক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর একাত্তরের অতীত আর তাদের নারী নীতি মনে করিয়ে দিয়ে ‘ভাসমান’ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন তারেক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তার সেই কৌশল অংশত কাজেও লেগেছে। তার সঙ্গে জামায়াতকে ঠেকানোর চেষ্টায় অনেক ভেটোর ভোটার বেছে নিয়েছেন বিএনপিকে। সব মিলিয়ে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।
তারেকের ঢাকায় পৌঁছানোর পর বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত এগিয়েছে যে তিনি নিজেও নিজের সঙ্গে সব মিলিয়ে নেওয়র সুযাগ পাননি।
নির্বাচনের আগে আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রতি মিনিট কীভাবে কাটালাম, আমি জানি না।"
মায়ের ছায়া থেকে দলের কাণ্ডারী
১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর বগুড়ার গাবতলীতে তারেক রহমানের জন্ম। তার বাবা জিয়াউর রহমান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি হন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।
পরে ১৯৭৭ এর ২১ এপ্রিল বিচারপতি আবু সাদাত সায়েমকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে তিনি ওই দায়িত্ব নেন। সামরিক আইন প্রশাসক ও সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় নেপথ্যে থেকে জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন। তার এক বছরের মধ্যে রাজনীতিতে আসেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া, তাকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছিল।
তখন বিএনপির চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ ১৯৮২ সালে বিএনপি হটিয়ে ক্ষমতা দখল করলে সাত্তারের অসুস্থতার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের পদ নিয়ে দলের হাল ধরেন খালেদা।
তারপর ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা। সেই থেকে আমৃত্যু তিনি এই পদে ছিলেন।
তাদের বড় ছেলে তারেক ঢাকার বিএফ শাহীন স্কুল ও ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে লেখাপড়া করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে পড়াশোনা ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন।
বিএনপির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে পা রাখেন তারেক রহমান।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় মায়ের সঙ্গে জেলায় জেলায় প্রচারেও অংশ নেন।
২০০১ সালের নির্বাচনের আগে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা এবং সুশাসনের ওপর গবেষণা করার জন্য ঢাকায় একটি অফিস প্রতিষ্ঠা করেন তারেক রহমান। সেই অফিসটি পরে ‘হাওয়া ভবন’ নামে পরিচিতি পায়।
ওই বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট তৃতীয়বার সরকার গঠন করে। সরকারের কোনো পদে না এলেও তারেক ততদিনে রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। বলা হয়, মন্ত্রীসভায় কে কে থাকবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল।
২০০২ সালে তারেককে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে দলের স্থায়ী কমিটি। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, হাওয়া ভবন থেকে সে সময় ‘সমান্তরাল সরকার’ চালাতেন তারেক।
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের টানা চারবার ‘চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার পেছনেও ‘হাওয়া ভবনের কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করা হয়।
নির্বাচনের আগে এক সাক্ষাৎকারে ওই সময়ের দুর্নীতির প্রসঙ্গ ধরে তারেক রহমানকে প্রশ্ন করেছিল টাইম ম্যাগজিন। জবাবে তারেক রহমান সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শেষ পর্যন্ত কোনো কিছু আদালতে প্রমাণ হয়নি।
২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার জন্যও তখনকার বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ। সে অভিযোগও বিএনপি কখনো স্বীকার করেনি। বরং তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে কারাগারে চিকিৎসায় ‘অবহেলাই’ খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর পথে নিয়ে গেছে।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় ১৩ মামলা।
যৌথ বাহিনীর হেফাজতে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারেক রহমানকে ভর্তি করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।
প্রায় আঠারো মাস পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্তি পান তারেক। সেই রাতেই স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য’ লন্ডনে চলে যান তিনি। শুরু হয় নির্বাসিত জীবন।
এর মধ্যেই ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এদিকে দেশে শুরু হয় বিএনপির দুঃসময়। ২০১০ সালে শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে উৎখাত হন তার মা খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপি সংসদের বাইরে চলে যায়, রাজপথই হয় দলটির ঠিকানা।
২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়, যা ছিল তার জন্য বড় ধাক্কা। সেই বৈরী সময়েও তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেননি।
এর মধ্যে তার পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। কয়েক ডজন মামলার আসামি বিএনপির এই নেতা তখন আদালতের দৃষ্টিতে পলাতক। তার পাসপোর্ট আর নবায়ন করা হয়নি। এক সময় শোনা যায়, তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সময়ে তারেকের বিরুদ্ধে আরো ৭২টি মামলা হয়। সব মিলিয়ে ৫টি মামলায় তার সাজার রায় আসে। এর মধ্যে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় জজ আদালত। হাই কোর্ট বাংলাদেশে তার বক্তব্য-বিবৃতি প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে যেদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলে, সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর সাত বছর ধরে লন্ডন থেকে ভিডিও কলেই দল চালিয়ে গেছেন তারেক।
২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দিলেও দুই শর্তের কারণে তিনি কার্যত বন্দি ছিলেন বাসা আর হাসপাতালের জীবনে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তাকে আর দেখা যায়নি।
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি মুক্তি দেন। পরে উচ্চ আদালতও তাকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।
আওয়ামী লীগের আমলে দেওয়া বিভিন্ন রায়ে তারেক রহমানেরও সাজা হয়েছিল। সেসব মামলায় তিনি খালাস পান। তাতে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।
অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে কয়েক লাখ কর্মী সমর্থকের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারেক রহমান। তাকে ঘিরে বিএনপিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়। বাসের ভেতর থেকে সড়কজুড়ে ভিড় করা জনতার উদ্দেশে তারেকের হাত নাড়ার দৃশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নেয়।
৩০ ডিসেম্বর তারেকের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। পরদিন লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার বড় ছেলের দলের শীর্ষ পদে আসা অবধারিতই ছিল। গত ৯ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারেক রহমান নিজেই তার যোগ্যতাবলে নেতৃত্বে উঠে এসেছেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও দূরদর্শিতা তাকে শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছে।”
নতুন রাষ্ট্রনেতা
দেশে ফেরার পর থেকে তারেক রহমান নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে গেছেন, যিনি আওয়ামী আমলের নিপীড়ন ভুলে সামনে তাকাতে প্রস্তুত।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “প্রতিশোধ দিয়ে কী পাওয়া যায়? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। তাতে ভালো কিছু আসে না। এখন দেশের জন্য আমাদের যা প্রয়োজন তা হল শান্তি ও স্থিতিশীলতা।"
নির্বাচনি প্রচারের সময় তিনি তরুণদের সঙ্গে আলাদাভাবে সংলাপে অংশ নিয়েছেন। তাদের কথা শোনার পাশাপাশি ব্যাখ্যা করেছেন–শান্তি, ঐক্য, সহনশীলতা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করাই তার ‘প্ল্যান’।
তার নির্বাচনি স্লোগান ছিল- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। নির্বাচনের প্রচারে অধিকাংশ সময় তার গায়ে দেখা যায় সাদা শার্ট। কখনো জিন্স আর কেডসও ছিল। পোশাক নির্বাচনে তার এই বিশেষত্ব সোশাল মিডিয়ায় আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে।
কয়েকটি জনসভায় তার মাথায় দলীয় নির্বাচনি স্লোগান লেখা লাল ক্যাপ যুক্তরাষ্ট্রে ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
দুই দশক আগে বিএনপি সরকারের সময়ে যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেও অনেকটা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন তারেক রহমান।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে বিএনপির অগ্রাধিকার।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোনো আপস করবে না। সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টক্ষতের মত ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।”
আর নির্বাচনে জয়ের পর শনিবার প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমার বক্তব্য স্পষ্ট—যেকোনো মূল্যে অবশ্যই শান্তি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড আমরা বরদাশত করব না।
“দল-মত-ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই থাকুক, কোনো অজুহাতে অবশ্যই দুর্বলের ওপরে সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেব না।”
দেশ পরিচালনায় ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্ন মত—প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান।
“আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
“তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার রূপ না নেয়—সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আমি আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিএনপি প্রধান বলেন, “আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে আমরা ভূমিকা রাখি।
“একটি নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্ন মতের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”