শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে সরকারি জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। রবিবার (০৪ অক্টোবর) বিকেলে এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম।
জানা যায়, সুগন্ধা পয়েন্ট সিইন মার্কেট সংলগ্ন সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছিল ৭৪ টি দোকান। প্রতি দোকান থেকে বাৎসরিক এককালীন ভাড়া বাবদ নেওয়া হতো ১০ লাখ টাকা। আবার কিছু দোকানের ভাড়া বছরে ৮ লাখ টাকা। প্রতি বছর এসব দোকানের ভাড়া তোলা হতো ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এত টাকার লেনদেন হলেও সরকারি কোষাগারে যেতো না এক টাকাও। দীর্ঘ এক যুগ থেকে এই জায়গায় দোকান নির্মাণ করে কোটি টাকার বাণিজ্য করে আসছিল একটি সিন্ডিকেট। গত দুই দিন আগে সুগন্ধায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ছিল প্রশাসন। এর পরপরই সুগন্ধা মোড় মার্কেট নিয়ে প্রশ্ন উঠে। স্থানীয়দের মতে, সরকারের একই জমিতে (বাতিলকৃত প্লট) বারবার অভিযান চললেও সুগন্ধা মোড় মার্কেট কেন উচ্ছেদ করা হয় না? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো চারিদিকে। নানা প্রশ্নের মুখে অবশেষে রবিবার বিকেলে উচ্ছেদ চালিয়ে ৭৪টি দোকান সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, আলির জাহাল এলাকার একজন থেকে একটি দোকান নিয়েছি। চলতি বছরের জন্য তাঁকে এককালীন ১০ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়া সুগন্ধায় যখন উচ্ছেদ হয়, তখন এক দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা করে দিতে হয়। এখানে যাঁরা দায়িত্বে আছে তাঁদের নির্দিষ্ট লোকও আছে। তারা এসে টাকা নিয়ে যায়। সেই টাকা কারা নেয়, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের কথা বলে নিয়ে যায়।
আরেকজন ব্যবসায়ী জানান, আমি ৮ লাখ টাকা দিয়ে দোকান নিয়েছি। সামনে পূজার সরকারি বন্ধে অনেক টাকার মালামাল তুলেছি। দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ায় মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি দোকান নেওয়ার সময় বলেছিল, সব জায়গায় উচ্ছেদ হলেও এই জায়গায় কোনদিন উচ্ছেদ হবে না। মাল্টিপারপাসে কিস্তি আছে,
এখন এত টাকা লোকসান মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে ৭৪টি দোকান গড়ে তোলেছিল একটি চক্র। সেগুলো সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই জমিতে সরকারের সাইনবোর্ড তুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাতিলকৃত সকল প্লট এখন সরকারের। সরকারি জায়গায় গড়ে তোলা সকল স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। এ অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ০১ অক্টোবর কলাতলীতে ১৯ টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল প্রশাসন। এর একদিন পর শনিবার কলাতলী সওজের বেদখলীয় জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।