ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে এবার ইতিহাস গড়ার পালা বাংলাদেশের। জাপানের এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো সার্ফিংয়ে নামছেন ফাতেমা আকতার ও মো. মান্নান। তাহারার প্যাসিফিক লং বিচে দুই দিনের অনুশীলন শেষে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মূল লড়াইয়ে নামবেন তারা। প্রতিকূল আবহাওয়া আর ছোট ঢেউ পেরিয়ে লাল-সবুজের পতাকা উঁচু করার প্রত্যয় দুই সার্ফারের।
এদিকে সবুজ পাহাড় অন্যদিকে সমুদ্রসৈকত। এশিয়ান গেমসে সার্ফিং প্রতিযোগিতা হচ্ছে জাপানের তাহারা শহরের এই প্যাসিফিক লং বিচে। খেলোয়াড়দের হোটেল থেকে ভেন্যুর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে বাংলাদেশের সার্ফার ফাতেমা ও মান্নানের প্রথম দিনের অনুশীলন হয় সীমিত সময়। কিন্তু অনুশীলনের দ্বিতীয় দিন বৈরী আবহাওয়া মাড়িয়ে দেখা দেয় ঢেউয়ের। তবে ঢেউয়ের মাত্রা ছিল অনেকটা কম। তারপরও জাপানের সমুদ্রসৈকতের ঢেউ জয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ছুটে আসেন দুই সার্ফার ফাতেমা ও মান্নান। জাপানের প্যাসিফিক লং বিচের বালুচরে টিম অফিসিয়াল ও কোচ সাইফুল্ল্যাহ সিফাতের নেতৃত্বে শুরু করেন ওয়ার্ম-আপ।
বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া যেমন অনুকুলে আসতে শুরু করে, ঠিক তেমনি ঢেউয়ের মাত্রাও বাড়তে থাকে। আর জাপানের ঢেউয়ের বাঁধা পেরিয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা ফাতেমা ও মান্নানের। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা লড়াই করেন ঢেউয়ের সঙ্গে। ছোট ঢেউ আর বৈরী আবহাওয়ায় প্রস্তুতিতে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি নেই ফাতেমা-মান্নানের। মূল প্রতিযোগিতায় বড় ঢেউয়ে সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় তাদের।
নারী সার্ফার ফাতেমা আকতার বলেন, আজ আমাদের প্র্যাকটিসের শেষ দিন। আবহাওয়া তেমন ভালো না থাকায় আজ সেভাবে অনুশীলন করতে পারিনি। তবে ছোট ঢেউ থাকলেও ভালো লাগছে। আশা করছি, কাল ঢেউ আরও বড় হবে এবং ভালোভাবে পারফর্ম করতে পারব।
আমরা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে জাপানে অংশগ্রহণ করছি। এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের ও আনন্দের। সবাই আমাদের পাশে থাকবেন। ইনশাআল্লাহ, দেশের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব এবং এখানে লাল-সবুজের পতাকাকে উঁচুতে তুলে দেশের সুনাম বয়ে আনব।
পুরুষ সার্ফার মো. মান্নান বলেন, আমি পরপর তিনটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে এখানে খেলার সুযোগ পেয়েছি। গতকাল আবহাওয়া খুব একটা ভালো ছিল না, তারপরও প্রায় ২০ মিনিট অনুশীলন করেছি। আজ আবহাওয়া ভালো থাকলেও ঢেউ ছোট হওয়ায় সেভাবে প্র্যাকটিস করতে পারিনি। তবে আশা করছি, কাল প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু করতে পারব। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ায় অনুশীলনে সীমাবদ্ধতা থাকলেও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ সার্ফিং দল। শেষ মুহূর্তে জাপানে পৌঁছানো এবং সরঞ্জাম সংকটের মধ্যেও দুই দিন অনুশীলন করেছে তারা। কোচের আশা, মূল প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরাটা দেবে ফাতেমা-মান্নান। পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে বিশ্ব সার্ফ লিগ ও অলিম্পিকেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
বাংলাদেশ সার্ফিং দলের টিম অফিসিয়াল ও কোচ মো. সাইফুল্ল্যাহ সিফাত বলেন, জাপানে এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে এসে দুই দিন আমরা প্র্যাকটিসের সুযোগ পেয়েছি। বুধবার আবহাওয়া ও ওয়েভ কন্ডিশন খুব খারাপ থাকায় ভালোভাবে অনুশীলন করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকলেও ঢেউ ছিল ছোট। তারপরও সকাল ৮টা থেকে চার ঘণ্টার বেশি সময় অন্যান্য দেশের সার্ফারদের সঙ্গে আমাদের খেলোয়াড়রা অনুশীলন করেছে।
আশা করছি, মূল প্রতিযোগিতায় আমাদের খেলোয়াড়রা ভালো পারফরম্যান্স করবে। তবে আমরা শেষ মুহূর্তে এখানে পৌঁছেছি। বাংলাদেশে ব্যবহৃত আমাদের সরঞ্জামগুলো এখানকার কন্ডিশনের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। তাই নতুন কিছু সরঞ্জাম কেনার চেষ্টা করছি এবং ইতোমধ্যে কিছু সরঞ্জাম কিনেছিও।
আমাদের খেলোয়াড়রা গত তিনটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো পারফরম্যান্স করেই এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা প্রতিভাবান। পর্যাপ্ত সুযোগ ও দেশের বাইরে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে বিশ্ব সার্ফ লিগের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অলিম্পিকেও বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
জাপানে এশিয়ান গেমসে সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ১৭ দেশের নারী ও পুরুষ বিভাগে ৪৮ জন প্রতিযোগী।