কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। গতকাল সকাল ১১টায় মহেশখালী উপজেলা টিডিসি হলে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় মহেশখালীর রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ছাত্র সমাজ, ব্যবসায়ী, ওলামা-মাশায়েখ, লবণ চাষী এবং মৎস্যজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ নিজ এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সমস্যার কথা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন।
এমপি আলমগীর ফরিদ বলেন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার উন্নয়ন আমার প্রধান অগ্রাধিকার। এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং নতুন নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি।
সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গার অবৈধ দখলদারদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এমপি আলমগীর ফরিদ বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গায় কোন অবৈধ চিংড়ি প্রজেক্ট থাকবেনা। প্রভাবশালী কোনো মহলের চাপের কাছে নতিস্বীকার করা হবে না; সরকারি জমি উদ্ধার করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানান, সোনাদিয়ার জমি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের সম্পদ এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
উপকূলীয় বনায়ন ও প্যারাবন রক্ষা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বাইন গাছ নয়, বরং সোনাদিয়া ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির বৈচিত্র্যপূর্ণ বন সৃজন করা হবে। তবে বন তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের স্বার্থের কথা মাথায় রাখা হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, বন তৈরির সময় জেলেদের নৌ-চলাচলের জন্য ‘মাছের গলি’ বা বিশেষ নৌ-পথ খোলা রাখা হবে যাতে তাদের প্রাত্যহিক জীবিকা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। তিনি বলেন, আমাদের অক্সিজেন দরকার, বেঁচে থাকার জন্য সুন্দর পরিবেশ দরকার। তাই প্যারাবন রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, মহেশখালীর মেগা প্রকল্পগুলোর সুফল যাতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে জেলেদের অধিকার রক্ষায় এবং সাগরে তাদের নির্বিঘ্নে চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি বনায়ন ও পরিবেশ রক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা হবে।
সভায় স্থানীয় পৌরসভার বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানানো হলে এমপি বলেন, আমি জানি আমাদের কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্দের বৈষম্য রয়েছে। মহেশখালী পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণির মানের সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জোরালো দাবি জানাব।
সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ আরও বলেন, উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভাব-অভিযোগ ও দাবিগুলো লিখিত আকারে সংসদ সদস্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়।