কুতুবদিয়া-মগনামা চ্যানেল পারাপারের তিনটি ঘাটে টোল অর্ধেকে নামানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে বড়ঘোপ ও দরবার ঘাটের জেটিতে যাত্রীদের ওঠা-নামার সময় টোল দিতে হতো। একইভাবে মগনামা ঘাটে পৌঁছেও আবার টোল দিতে হত। ফলে একবার পারাপারেই যাত্রীদের দুইবার টোল গুনতে হতো, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল স্থানীয়দের মধ্যে।
বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ একমুখী টোল আদায়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে দ্বীপের প্রায় দেড় লাখ মানুষ দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চ্যানেলের উভয় প্রান্তে আগে ১০ টাকা করে নেওয়া টোল কমিয়ে এখন একপাশে ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এতে ইজারাদাররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
দরবার ঘাটের ইজারাদার কামাল হোসেন বলেন, গত বছর প্রায় ৮০ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছিল। আগে দৈনিক গড়ে ৭-৮ হাজার টাকা টোল আদায় হলেও এখন তা কমে ৪ হাজার টাকায় নেমেছে। বিশেষ করে কুতুব শরীফ দরবারে আসা ভক্তদের একটি বড় অংশ বড়ঘোপ ঘাট ব্যবহার করায় তিনি প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকা টোল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বড়ঘোপ ঘাটের টোল আদায়কারী সৈয়দ আলম জানান, গত বছরের ইজারামূল্য ছিল ১ কোটি ২২ লাখ টাকা। একমুখী টোল চালুর পর প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকা ঘাটতি হচ্ছে। জুন পর্যন্ত তিন মাসে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। আগামী অর্থবছরে ইজারামূল্য কমানো না হলে খরচ তোলা কঠিন হবে বলেও জানান তিনি।
মগনামা ঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, গত ২ এপ্রিল থেকে একমুখী টোল কার্যকর হয়েছে। এতে আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং জুন পর্যন্ত লোকসান গুনতে হবে। নতুন অর্থবছরে ইজারামূল্য সমন্বয় না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান বলেন, পহেলা বৈশাখ থেকে একমুখী টোল আদায় শুরু হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা এখনও তার কার্যালয়ে পৌঁছায়নি।