দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর ঘাটে এসে পৌঁছেছে।
গত শুক্রবার সকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকা থেকে ট্রলারটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং দুপুর দেড়টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ স্থলবন্দরের ঘাটে এসে পৌঁছে। এতে আমদানি-রপ্তানিকারকসহ শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই সময় তিনি বন্দরের কার্যক্রম সচল করার ঘোষণা দেন।
স্থলবন্দরে বোট আসার খবরে ছুটে আসেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সীমান্তে বৈধ ব্যবসা চালু হোক, যা থেকে রাজস্ব আদায় হবে। হাজারো মানুষ তাদের কর্মসংস্থান ফিরে পাবে। আমদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুই মাসের মাথায় আজ টেকনাফ স্থলবন্দর সচল হয়েছে। এটি পুরোদমে সচল করতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসা উচিত।’
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার দুপুর ১টার পর মিয়ানমারের পতাকাবাহী একটি কাঠবোঝাই ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দর ঘাটে নোঙর করে। ট্রলারে পাঁচজন মিয়ানমারের মাঝিমাল্লাহ ছিল। সেখানে ৪২ টন কাঠ রয়েছে, যা মেসার্স এসআইএস ইন্টারন্যাশনালের মালিক আমদানিকারক সিএন্ডএফ এজেন্ট এফআরবি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক ওমর ফারুকের অধীনে রয়েছে।
মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই ট্রলার নিয়ে আসা মাঝি নেছার আহমেদ বলেন, ‘মিয়ানমার মংডু খাল থেকে দুই ঘণ্টায় টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছেছি। আসার পথে নাফ নদীতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বিজিবির টহল দল তল্লাশি চালিয়ে ছেড়ে দেয়।’
এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘স্থলবন্দরের পক্ষ থেকে মিয়ানমার থেকে একটি কাঠবোঝাই ট্রলার আসার বিষয়টি অবহিত হয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। কাঠবোঝাই ট্রলারটি মিয়ানমারের কোন এলাকা থেকে এসেছে—সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’
জানতে চাইলে স্থলবন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে ছেড়ে আসা একটি কাঠের বোট বন্দরে পৌঁছেছে। দুপুরে কাঠবোঝাই ট্রলার বন্দরে পল্টনে এসে ভিড়ে। বোটে চম্পাফুল ৫২০ পিস, গর্জন ৪৪৩ পিস, মোট ৯৬৩ পিস কাঠ এসেছে, যা খালাসের প্রক্রিয়া চলছে।’
মেসার্স এসআইএস ইন্টারন্যাশনাল মালিক আমদানিকারক সিএন্ডএফ এজেন্ট এফআরবি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে অবশেষে টেকনাফ স্থলবন্দরে কাঠের বোট পৌঁছেছে। আমরা ব্যবসায়ীরা প্রাণ ফিরে পেয়েছি। পুরোদমে চালু হলে এতদিনের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও পূরণ হবে।’
উল্লেখ্য, দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার।
তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই কাঠের বোটের আগমন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।